সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ ‘বাংলাদেশের জনগণ’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় ‘জেয়াফত’র আয়োজন করে একদল লোক। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমণের প্রতিবাদ জানিয়ে এ ‘জেয়াফত’ অনুষ্ঠান করে তারা।
প্রোগ্রাম শুরু হলে আয়োজনকারীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ হামলার পর সন্ধ্যায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা মশাল মিছিল বের করলে ভিসি চত্ত্বর এলাকায় দ্বিতীয় দফায় হামলা করে ছাত্রলীগ। হামলার পর টিএসসি এলাকায় অবস্থানরত সাংবাদিকদের হেনস্তা করে তারা।
সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকা থেকে মশাল মিছিল বের করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোট। কর্মসূচি শেষ করে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে ভিসি চত্ত্বর এলাকায় হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সেখানে জোটের অন্তত ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। এসময় গণমাধ্যমকর্মী ভেবে ছাত্রলীগেরই একজনকে মারধর করেন তারা। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। হামলার সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সহস্রাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থান নেন।
এ বিষয়ে ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ মোদিবিরোধী মিছিল শেষে আমরা ফিরে আসছিলাম। এসময় পিছন থেকে মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রলীগ কারো উপর হামলা করেনি। রাতে কিছু লোক ফুলার রোড দিয়ে বাঁশ, লাঠি নিয়ে আসছিল। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে আবার তারা ফুলার রোড দিয়ে চলে যায়।
এদিকে ছাত্রলীগের কয়েক দফা হামলায় আহত হয়েছেন তিন সাংবাদিক। প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আসিফ হাওলাদার, বাংলা ট্রিবিউনের ঢাবি প্রতিনিধি আবিদ হাসান রাসেল গুরুতরভাবে আহত হন। আবিদ হাসান রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে আসিফ হাওলাদারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া দায়িত্ব পালনের পর ফেরার পথে ইত্তেফাক অনলাইনের সহ সম্পাদক সাকিব আব্দুল্লাহ আহত হয়েছেন।
এদিকে সন্ধ্যায় জোটের মিছিল শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রোকেয়া হলের সামনে সাংবাদিকদের হেনস্তা করে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগরের নেতা-কর্মীরা।
হেনস্তার বিষয়ে ইত্তেফাকের ফটো সাংবাদিক আব্দুল গনি বলেন, প্রোগ্রাম শেষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের দিকে তেড়ে আসে। তারা আমাদের কাছ থেকে জবাবদিহিতা চায়। তারা জানতে চায়, আমরা কেন ছবি তুলি। আমাদের অনুমতি কে দিয়েছে। পরে সেখান থেকে আমরা চলে আসি।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কারা হামলা করেছে আমরা বিষয়টি জানতে পারিনি। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সাংবাদিকদের উপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, দেখা যায় যে অনেকে কার্ড বানিয়ে সাংবাদিক সেজে ঘুরে বেড়ায়। যার কারণে অনেক সময় সাংবাদিক আর অসাংবাদিকের চিহ্নিত করা যায় না। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চিনতে পারেনি, তাই তারা না বুঝে হামলা করেছে।ইত্তেফাক
Sylhetnewsbd Online News Paper