রোদের দিনে দুলোর কারনে কাপড় চোপড় নষ্ট হয়ে যায় আর বৃষ্টির দিনে আধাকান পাও হামাই যায়।

ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ডের সৈয়দপু সহ কুশিয়ারা বাধঁ রাস্তাটি সাদিপুর ও সৈয়দপুর এই দুই গ্রামকে বিভক্ত করেছে। এই রাস্তাকে কেন্দ্র করে উক্ত দুই গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ী রয়েছে যেখানে প্রায় ০২ হাজার লোক বাস করেন এবং একটি করে স্কুল, মসজিদ ও মক্তব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি অবৈধ মাটি ব্যবসার জন্য এই বাধঁ রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত চক্রটি প্রায় ৮ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত ভাগলপুর ইট-ভাটায় টানা ২ বছর মাটি সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দেয়ার হয়েছে।তারা দৈনিক উক্ত বাধঁ রাস্তাটি দিয়ে প্রায় পাঁচশত ট্রাক মাটি ভাগলপুর ইট-ভাটায় সরবরাহ করে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন কুশিয়ারা বাধঁ রাস্তাটি যেমন ধ্বংসের সম্মুখিন অন্যদিকে চরম বিপর্যয় ঘটেছে জনস্বাস্থ্যের, পরিবেশ দূষন ও বায়ু দূষনের মাত্রার। দৈনিক পাঁচ শতাধিক ট্রাক মাটি সরবারাহের ফলে কুশিয়ারা নদীর এই বাঁধের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ভাঙ্গন। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ফসল নষ্ট ও বন্যায় ঘর-বাড়ী তলিয়ে যাবার আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ডাইক বা বাঁধ রাস্তাটি কাচা হওয়ায় অতিমাত্রায় ধুলো-বালিতে বায়ু দূষনের মাত্রায় চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এলাকার মানুষ স্বাসঃকষ্ট, সর্দি, জ্বর ও কাশির মতো জটিল রোগে ভোগছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমল মতি স্কুল ও মক্তবগামী শিশুরা। বাতাসের মাধ্যমে এসব ধূলো-বালি ঘরগুলোতে প্রবেশ করায় এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরেছে। এসব ধূলো-বালি জমে বিভিন্ন প্রকারের গাছ-পালা, ফসলি জমি ধ্বংস হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা সওকত হোসেন জানান এ-ই রাস্তা দিয়ে বড় বড় ট্রাক ও ট্রাক্টর প্রতিদিন যাতায়াত করার ফলে আমাদের বাড়ি ঘর দুলায় অন্দকার হয়ে যায়, তার ফলে আমাদের এলাকার স্কুল ও মসজিদ বাচ্চা কাচ্চা ধুলোর কারনে যাওয়া অসম্ভব।
তারা এসব ইট ভাটায় দ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনার দাবি করেছেন।ঐ এলাকার অভিবাবক শিউলি আকতার বলেন আমার মেয়ে ও আমার বাড়িতে কয়েক জন স্কুল পরুয়া ছাত্র-ছাত্রী আছে তারা ধুলোবালির কারণে স্কুল ও মসজিদে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এ কারণে শ্বাসকষ্ট সহ নানা রোগে ভুগছে। সাদিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষাত্রী সৈয়দা মাছুমা আক্তার জানান ইস্কুলে জাওয়া যায় না রোদের দিনে দুলোর কারনে কাপড় চোপড় নষ্ট হয়ে যায় আর বৃষ্টির দিনে আধাকান পাও হামাই যায়।
ঐ এলাকার বাসিন্দা আনা মিয়া বলেন, রস্তায় অনেক ভারী যানবাহন স্কুলমুখী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারী মহা বিপাকে। মাদরাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা চরম বিরক্ত। মেঘ বিষ্টির দিনে মাদরাসা ও স্কুলে হেঁটে যাওয়ার সময় কাদার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ইটভাটার ট্রাক দ্রুতগতিতে ছুটে যাওয়ার সময় কাদাযুক্ত পানি কাপড় নষ্ট করে ফেলে। আমরা বড়রাসহ ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জমিনে নেমে ওই স্থান অতিক্রম করতে হয়৷ ইটভাটাটি করা হয়েছে আইন না মেনে জনবসতিতে সেইসঙ্গে ফসলের মাঠ এবং এবং ছড়ার পাড়ের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।মাটি ব্যাবসায়ী টিপু মিয়ার কাচে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার চার পাঁচটি গাড়ি তার ছেয়ে বেশির ভাগ গাড়ি বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি বেশি ঐ রাস্তায় যাতায়াত করে। আমি না হয় বন্ধ করে দিবো। ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মইনুল হক বলেন এই রাস্তার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি ছোট্ট রাস্তায় ভারী যানবাহন চলার কথা নয,বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নীলিমা রায়না বলেন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এব্যাপারে আমি অভিযোগ দখিনাই ১৪তারিখে দিয়েছে হয়তো ডাক পাইলে আছে আমি এখনো দেখি নাই।
পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক সিলেট এমরান হোসেন সরেজমিনে দেখে ব্যাবস্তা নেবো।