সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ শনিবার (৮জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান-বারিধারায় ডিপ্লোমেটিক জোনে অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে গুলিতে নিহত হন কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম। খবর পেয়েই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় সোয়াত টিম । আটক করা হয়েছে ঘাতক কনস্টেবল কাউসারকে।
এ হত্যাকান্ডের সময় সাজ্জাদ হোসেন নামক জাপান দূতাবাসের একজন গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গাড়িচালককে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত কনস্টেবলের বড় ভাই বাদী হয়ে ঘাতক কনস্টেবল কাউসারকে প্রধান আসামি করে গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার পুলিশ কনস্টেবল কাউসার এর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহাম্মদ এ আদেশ দেন। এর আগে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। কনস্টেবল কাউসারকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
৯ই জুন রোববার দুপুরে ডিএমপির সদর দফতরে ব্রিফিংয়ের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগের আতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন জানান সহকর্মী মনিরুল ইসলামকে ৮ থেকে ৯ রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে কাওসার । এ সময় কাউসার মানসিক চাপে ছিলো বলেও তিনি জানান । তিনি বলেন এটি একতি অনাকাঙ্কিত ঘটনা । কাউসার ও মনিরুলের মধ্যে ব্যক্তিগত কোন বিরোধ ছিলো না । প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে দুজনের মধ্যে কোন তর্কের কারনে এমনটা হতে পারে । তবে নিশ্চিত করে জানতে তদন্ত চলছে ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত মনিরুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বিষ্ণুপুরে । বাবার নাম মুক্তিযুদ্ধা মৃত শামসুল হক। তার তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে । কনস্টেবল মনিরুল ও কাউসার দুজন কূটনীতিক এলাকায় দায়িত্বরত অবস্থায় তাদের মধ্যে কোনো একটা বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির সূত্র ধরে একপর্যায়ে নিজের সঙ্গে থাকা অস্ত্র দিয়ে মনিরুলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে কাউসার। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মনিরুল । এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper