সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ গত শনিবার (২৯ জুন) রাতে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় হাজির হয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়রি করেছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা শেরে বাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুজ্জামন শরীফ গণমাধ্যমকে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জিডি হয়েছে এটা নিশ্চিত।একটি মহল ব্যারিস্টার সুমনকে চুনারুঘাট থানার ওসির মাধ্যমে হত্যার হুমকি দিয়েছে । সুমন জিডির কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছেন, ভয়টা মৃত্যুর নয়, ভয়টা আমার এলাকার মানুষের জন্য! কি হবে যদি বেঁচে না থাকি।
ব্যারিস্টার সুমন জিডিতে উল্লেখ করেছেন, গত ২৭ জুন ঢাকায় অবস্থানকালে রাত আনুমানিক ৮ টার সময় আমার নির্বাচনী এলাকার চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার সরকারি মোবাইল থেকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে জানান যে, আপনাকে হত্যার জন্য অজ্ঞাতনামা একটি শক্তিশালী মহল গত তিন দিন আগে ৪-৫ জনের একটি টিম নিয়ে মাঠে নেমেছে। আপনি রাতে বাইরে বের হবেন না এবং সাবধানে থাকবেন।জিডিতে সুমন আরও উল্লেখ করেছেন, তখন আমি ওসির কাছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ওই ব্যক্তির পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন এবং আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন। তিনি এই বিষয়টি জানার পরে মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
রোববার (৩০ জুন) সায়েদুল হক সুমন বলেছিলেন, আমি থানায় জিডি করার আগেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ছিল যারা হুমকি দিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। কারণ তাদের থেকে আমি হুমকির তথ্য পেয়েছি। আমি একজন সংসদ সদস্য। যখন আমার এলাকার ওসি কোন এক মাধ্যমে জেনেছেন যে আমার লাইফ রিস্ক আছে তখনই কিন্তু তাদেরই উচিত ছিল এসপি বা ডিআইজির সঙ্গে আলোচনা করা।আমার প্রশ্ন হলো আমার হুমকি তো আমি জানি না। আমার আগে জেনেছেন ওসি। এটা কি সত্যই হুমকি নাকি ভোগাস সেটাতো আমার কাছে আসার আগেই তাদের তদন্ত করে ফেলা উচিত ছিল। আমাকে কেনো জিডি করতে হলো?এরপর এটা এসপি বা ডিআইজিকে জানানো দরকার ছিল। আমি জানার আগেই তাদের উচিত ছিলো আমাকে প্রোটেকশন দেবার। এরপর আমাকে জানাতে পারতেন যে এই থ্রেটটা রিয়েল অথবা ফেইক। কিন্তু ওসি আমাকে জানানোর পর, আমার জিডি করতে হলো। এখন তো আমার জীবনের নিরাপত্তা তো নিজেরেই দিতে হচ্ছে। ব্যারিস্টার সুমন প্রশ্ন রেখে বলেন আমি বুঝি না এই রাষ্ট্রযন্ত্র আসলেই কি আমাকে বাঁচায় রাখতে চায় কি না?কারণ আমি যেখানে জিডি করতেছি বা পুলিশ বিভাগকে জানাচ্ছি তারাই তো আমার আগে এই ঘটনা জেনেছে।
সুমন বলেন, বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সংসদে থাকাকালীন আমার এলাকার যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন তিনি আমকে কল করে জানান গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে আমি যেন বাড়ি আসার পর তার সঙ্গে বসি। পরে বাড়ি যাবার পর দুপুরে শুক্রবার আমার সঙ্গে বসেছিলেন ওসি। তখন ওসি আমাকে একটি ম্যাসেজ দেখালেন একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওসিকে ২/৩ দিন কল করেছেন। কিন্তু ওসি সাহেব কলটি আমলে না নেয়ায় ওই ব্যক্তি ওসিকে একটি ম্যাসেজ করে জানান যে, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেতে চান। এছাড়া ম্যাসেজে দেখা গেছে একটি কন্ট্রাক্ট কিলার গ্রুপ হায়ার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে এক্টিভ। সুমন বলেন, পরে ওসি তার ফোন দিয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে আমাকে কথা বলিয়ে দিলেন।কলে ওই ব্যক্তি জানান আমি যেন আগামী ২/৩ দিন বাসা থেকে না বের হই। অজ্ঞাত ব্যক্তি তিনি নিজের পরিচয় এবং ঠিকানা দেয় নি । সে কিলার গ্রুপের একজন সদস্য।সে জানায় যখন আমাকে হত্যার জন্য তার কাছে নাম আসে এবং এই হত্যা তাকে করতে হবে বলা হয় তখন তিনি এই কাজে অস্বীকৃতি জানান। কারণ তার বাড়িও সিলেট। তিনি আমার কাজকর্ম সম্পর্কে সব জানেন তাই তিনি রাজি হননি। ব্যারিস্টার সুমন আরোও বলেন আমি কিন্তু এর আগেও মৌখিকভাবে এবং পিএসয়ের মাধ্যমে হুমকি পেয়েছি। কিন্তু সেগুলো আমলে নেইনি। তবে এবার যখন ওসির মাধ্যমে এসেছে তখন আমার কাছে মনে হয়েছে এবার সিরিয়াসলি আমলে নিতে হবে।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, গভীর মনোযোগ সহকারে শুনলেন আমার প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে।আবারও উদাহরণ তৈরি করলেন মানবিকতার। অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের এমপিকে। ১ই জুলাই সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
Sylhetnewsbd Online News Paper