সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ সিলেটে সিগারেটের ধোঁয়া উড়ানোকে কেন্দ্র করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন ব্রাদার ও স্থানীয় একটি হোটেলের কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে উভয়পক্ষ হাসপাতালে ফের মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় হোটেলের কর্মচারীরা নার্সদের জিম্মি করে রাখেন। সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের ১ সদস্য, হাসপাতালের ১ স্টাফ ও ১ মহিলা নার্স সহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই সহোদরসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৩ জনকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন- সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার শাহজালালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে বর্তমানে নগরীর মীরবক্সটুলা ভাই ভাই রেস্টুরেন্টের কর্মচারি গিয়াস উদ্দিন রানা, তার সহোদর মোস্তাক হোসেন ও একই রেস্তোরার কর্মচারি জকিগঞ্জের আব্দুল আহাদের ছেলে আব্দুর রহিম (২২)।
জানা যায়, রাত ৮টার দিকে নগরের মীরব্কসটুলায় দোকানে বসে চা পান করছিলেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই ব্রাদার্স। পাশেই সিগারেট খেয়ে ধোঁয়া ছাড়ছিল ওই এলাকার একটি রেষ্টুরেন্টের স্টাফরা। সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে নিষেধ করা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয় তাদের মধ্যে। এক পর্যায়ে রেষ্টুরেন্ট থেকে হাঁতুড়ি, রড নিয়ে ১০/১২ জন কিশোর এসে হামলা করে ব্রাদার্সদের ওপর। এতে দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে জরুরী বিভাগে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় আর মারামারির ঘটনা ঘটে।
এসময় নার্সদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন হোটেলের স্টাফরা। আহতরা নার্স ও চিকিৎসকের সংরক্ষিত কেবিনে গিয়ে আশ্রয় নিলে চেয়ার তুলে আঘাত করে হামলাকারীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ জনকে আটক করে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষ মারামারি করে আহত হয়ে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। সেখানে তাদের মধ্যে আবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেখানে তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। তাদের এই মারামারি ভাঙ্গাতে গিয়ে হাসপাতালের নার্স, স্টাফ ও জেলা পুলিশের সিভিল ড্রেসে থাকা এক সদস্য আহত হন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করা হয়। তাদেরকে আজ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper