ভূমিকম্পের সময় করণীয়

১৩ এপ্রিল সন্ধ্যার পরপর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে ভূমিকম্পে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত এবং মিয়ানমারকেও প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দেয়।
বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৯।
ভূমিকম্পের সময় মানুষজন বহুতল ভবন থেকে রাস্তায় বের হয়ে আসে। অনেককেই আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় ছোটাছুটি-হুড়োহুড়িতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বৈ কমবে না।
তাহলে করণীয় কী? এ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করছে। তাদের এমন একটি উদ্যোগ ভূমিকম্পের সময় ও পরে করণীয় সম্পর্কে হ্যান্ডবিল প্রচার। তা থেকে পাঠকদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হলো।

ভূমিকম্পের সময় করণীয়-
ভূমিকম্পের সময় ভবনের ভেতর থাকলে হুড়োহুড়ি করে বের না হয়ে শক্ত খাট, টেবিল কিংবা বেঞ্চের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। কোনোভাবেই ভূমিকম্প চলাকালে ভবন থেকে বের হওয়া যাবে না। কারণ ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে ভবন থেকে নামতে গেলে ক্ষতির পরিমাণ বরং বাড়বে।
ভূমিকম্পের সময় সিঁড়ি, লিফট, ভবনের ছাদ এবং বারান্দা ব্যবহার করা যাবে না। রান্না ঘরের চুলা বন্ধ করে রাখবেন।
ভবনের বাইরে থাকলে বৈদ্যুতিক ও টেলিফোনের খুঁটি, উঁচু দেয়াল, বিলবোর্ড, বড় গাছ ও চলমান গাড়ি থেকে দূরে থাকুন। অন্যদিকে চলন্ত গাড়িতে থাকলে নিরাপদ খোলা জায়গায় থেমে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করুন।
ভূমিকম্পের সময় সেতু, কালভার্ট, ফুটওভার ব্রিজ, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস ব্যবহার করা যাবে না।

ভূমিকম্পের পরে করণীয়-
জরুরি নির্গমন পথ ব্যবহার করে খোলা নিরাপদ স্থানে চলে যান। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। নিরাপদ না হওয়া পর‌্যন্ত ভবনে ঢুকবেন না এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু করবেন না। আগুন জ্বালাবেন না। গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ পেলে সেখান থেকে দূরে সরে যান এবং কর্তৃপক্ষকে জানান।
ভবনে আটকাপড়া মানুষজনকে বের করতে সেবা সংস্থাকে সাহায্য করুন। ভবনের ভেতর নিজে আটকা পড়লে শান্ত থাকুন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। বিশ্বাস করুন আপনি বেঁচে থাকবেন। উদ্ধারকারীদের অপেক্ষায় থাকুন। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণেরে চেষ্টা করুন।