সিলেট নিউজ বিডি: ভারতের পূর্বাঞ্চলের ঝাড়খান্ড প্রদেশের লালমাটিয়ার এক কয়লা খনিতে ধসের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে আরও ২৩ জন শ্রমিক। বৃহস্পতিবার রাতে গোড্ডা জেলার ইর্স্টান কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর একটি কয়লা খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় ২০০ ফুট নিচে কাজ করছিলেন কর্মীরা। খবর ডেকান ক্রনিক্যাল।
শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ভারতের কয়লা মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, এখন পর্যন্ত ৯ জন কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও কয়েক জন শ্রমিককে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে খনির ভিতরে অনেকে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
কয়লা খনির কর্মকর্তা আর আর মিশ্রা জানান, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তখন খনিতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাজ চলছিল। সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। খনি নিরাপত্তা মহাপরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উদ্ধার তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ১০টি এক্সক্যাভেটর এবং ডাম্প ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।

খনি নিরাপত্তা মহাপরিচালক উচ্চ পর্যায়ের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিকে এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কয়লামন্ত্রী পিয়ুশ গয়াল, ঝাড়খান্ডের প্রধানমন্ত্রী রগুবর দাস এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী দাস খনি ধসের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ এবং আহতদের ২৫ হাজার রুপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে কয়লা খনি কোম্পানি ইসিএল নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে ধস। তখন খনিতে পুরোদমে কাজ চলছিল। পাশাপাশি, তাঁরা অভিযোগ করেন, কোনও রকম নিরাপত্তা ছাড়াই খনিতে কাজ চলছিল। ইসিএল একটি সংস্থাকে লালমাটিয়ার এই খনির টেন্ডার দিয়েছিল। সেই সংস্থার তত্ত্বাবধানে কাজ চলছিল।
রাতের অন্ধকার, কুয়াশা, দুর্গম রাস্তা- সব মিলিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু হতে একটু সময় লেগে যায় বলে উদ্ধারকারীরা জানান। তবে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper