শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও প্রতিকার

সিলেট নিউজ বিডিঃ দেশ বিদেশে হাজার হাজার মানুষ এ রোগে ভুগছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কেউ কেউ এক বছর থেকে দশ-পনেরো বছর পর্যন্ত বয়ে চলছেন অসুখটি। কিন্তু অনেক সময় অনেক চিকিৎসা করেও সঠিক চিকিৎসার অভাবে এবং এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও প্রয়োগের অভাবে রোগ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না। এই নিবন্ধে আমরা চেষ্টা করেছি সেই সঠিক তথ্যাদি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে, যাতে আপনারা বিষয়টি সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।  শ্বেতী রোগ আক্রান্তদের মনের কষ্ট বুঝতে পেরে তাদের সহযোগিতায় আমাদের এ ছোট্ট নিবেদন। এই প্রবন্ধের শেষের দিকে আরো কিছু রোগের কারণ ও প্রতিকারের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এসকল রোগ থেকে আরোগ্য লাভের নানা পন্থা সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। আপনারা এ রোগ থেকে মুক্ত হন, এটাই আমাদের কামনা। ———–ডা. মিজানুর রহমান , (বি.এ.এম.এস) ইউনানী (হারবাল) মেডিসিনে অভিজ্ঞ  মুঠোফোন : 01777988889

শ্বেতী – বড় অদ্ভুত একটি রোগ, তবে ভয়াবহ নয় মোটেও! শুধুমাত্র রোগটি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে শ্বেতী রোগীকে দেখলে আঁতকে ওঠেন অনেকেই। অনেকেই ভ্রূ কুঞ্চিত করেন ভাবনায়, ছোঁয়াচে নয়তো! একবারও কি ভেবে দেখেছেন, আপনার এই অভিব্যক্তি দেখে শ্বেতী রোগীর মনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়? কেউ হয়তো অপমানিতবোধ করেন, কেউ বা পান কষ্ট!

শ্বেতী রোগের চিকিৎসা একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ রোগ হলে প্রাথমিক অবস্থায়  Recap ক্রিম সহ Vitiligo Natural সেবন করলে তা ব্যবহারে ভালো হয়ে যায়। তবে যাদের ২/৪ থেকে ৫-১০ বছর যাবত এ রোগটি শরীরে বাসা বেঁধে আছে তাদেরকে ডাক্তারের পরামর্শ মতো কমপক্ষে এক বছর ধরে  এ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। এতে ধৈর্য হরালে চলবে না। রীতিমতো ঔষধ সেবন করতে হয়, যাতে শরীরে পর্যাপ্ত মেলানিন উৎপন্ন হয়ে শ্বেতী আক্রান্ত স্থানে পূর্বের মতো ত্বকের বর্ণ ধারণ করতে পারে।

এ রোগ হলে প্রাথমিক অবস্থায় ৩টি Recap ক্রিম, Vitiligo Natural ও Antiligo ক্যাপসুল খেলে শরীরে মেলানিন উৎপন্য হতে শুরু করে এবং আক্রান্ত স্থান ক্রমে কমে শরীরের অন্যান্য স্থানের মতোই সুন্দর হয়ে উঠে এবং শ্বেতী রোগের পরিসমাপ্তি ঘটে। সেই সাথে ভবিষ্যতে আবার যাতে শ্বেতী আক্রান্ত না হতে হয় সেজন্য ডাক্তারের নির্দেশমতো চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। ফলে পরবর্তীতে এ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা আর থাকে না।

যাদের শ্বেতী রোগ আছে তারা এ চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন৷ এটা একটা ভাল মানের চিকিৎসা সেবা।

কারো কারো শ্বেতীরোগ চিকিৎসায় ভালো হতে একটু সময় লাগে।কারো কারো এক বছর বা দেড়-দুই বছরও সময় লাগে। কারো কারো কম সময়ে ভাল হয়। তবে শ্বেতীরোগের পরিমানের উপর সময় কম বা বেশী লাগে। তাই নিরাশ না হয়ে চিকিৎসা সেবা নিলে ভাল ফল পাবেন।

বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনায় অনেকটা নিরাময়যোগ্য ওষুধের আবিষ্কার হয়েছে। কীভাবে বুঝবেন শ্বেতী হয়েছে? এই রোগে আক্রান্ত রোগীর চামড়া সাদা হয়ে যায়। এতে সর্বপ্রথম সাদা বিন্দুর দাগ পড়ে এবং ধীরে ধীরে অধিক স্থানজুড়ে সাদা হয়ে পড়ে।

প্রাথমিক পর্যায় হলে সম্প্রতি আবিষ্কৃত Recap নামের ঔষধ ব্যবহারে এর সফল চিকিৎসা আছে।  সেই সাথে Vitiligo Natural এবং Antiligo খেতে হবে। এটি শ্বেতী রোগের মহৌষধ। এতে মেলানিন সৃষ্টি হয় এবং ত্বকের বর্ণ স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে সহায়তা করে।

রোগের বয়স দীর্ঘ বা ক্রনিক হলে দীর্ঘদিন ওষুধ সেবন করতে হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসক ও রোগী দু’জনকে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়। কারণ শ্বেতী একটি জটিল রোগ। এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে ধৈয্যের পরিচয় দিতে হয়।

যাদের এ রোগটি শুরুর সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করা যায় অর্থাৎ ঔষধ প্রয়োগ করা যায় এবং নিম্নে বর্ণিত খাবার বিধি-নিষেধের বিষয়ে সচেতন হওয়া যায়। তাদের এ রোগ সহজেই নির্মূল হয়। আর এ রোগটি দু’তিন বছর যারা লালন পালন করছেন। খাবার দাবার বিধি-নিষেধমতো গ্রহণ করছেন না, ঔষধ প্রয়োগ করছেন না তাদের সুস্থ হতে তিন, চার বা ছয়মাস এমনকি দু’এক বছর সময় লাগতে পারে। তবে ঔষধ প্রয়োগের বিষয়ে ধৈর্য হারাবেন না। ঔষধ ব্যবহার করতে হবে এবং খাবার-দাবারের বিষয়ে নিম্নে বর্ণিত বিধি নিষেধগুলো মেনে চলতে দ্রুত এ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়।

করণীয় :

কোষ্ঠকাঠিন্য দোষ থাকলে দূর করতে হবে। দুধ, ছানা, মাখন, স্নেহজাতীয়, ফলের রস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য বেশি বেশি খাবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ভালো।

যা বেশি বেশি খাবেন :

খুরমা খেজুর, সবুজ মটরশুটি, শালগম, পালং শাক, এপ্রিকট, মেথি, ডুমুর, সবুজ শাকশবজি, আম, পেয়াজ, পেস্তা, আলু, পিউর ঘি, মুলা, লাল মরিচ, শাকসবজি, আখরোট, গম

যা একদম খাবেন না :

জাম, অরেঞ্জ, ব্লু বেরিজ, অ্যালকোহল, মাখন, কাজুবাদাম, চকোলেট, সামুদ্রিক মাছ, রসুন, আঙ্গুর, পেয়ারা, লেবু, সামুদ্রিক তৈলজাত খাবার, পেপে, নাশপাতি, বরই, গরুর গোস্ত,  সোডা জাতীয় যে কোনো কোমল পানীয় (যেমন পেপসি, কোকাকোলা, সেভেন আপ ইত্যাদি) , টমেটো, তরমুজ। ধূমপান, এলকোহল সেবন, উগ্রমশলাযুক্ত খাবার বর্জনীয়।

Vitiligo খাবার ও পথ্য
পথ্য সীমাবদ্ধতা Vitiligo ও ধবল রোগীদের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। Vitiligo ও ধবল চিকিৎসার সঠিক নিরাময়ের জন্য খাদ্য সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন। খাদ্য ছাড়াও নিচে উল্লিখিত সীমাবদ্ধতা Vitiligo মধ্যে বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

পথ্য সম্পর্কিত  :

দই, তেঁতুল, কাঁচা টমেটো, কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা রসুন, বেগুন, পেঁপে, কাঁচা মরিচ, আচার, সাইট্রাস ফল ও সাইট্রাস ফল আইটেম / কমলালেবু যেমন রস, লেবুর এমনকি আঙ্গুর কঠোরভাবে সীমিত হয়।

মাছ ও লাল মাংস এছাড়াও বর্জন করা উচিত। তৈলাক্ত / মসলাযুক্ত খাদ্য বর্জ ন করতে হবে। অ নিরামিষ খাবার খাওয়ার নত হবে। দুধ ও দুধ পণ্য ভোজন না করা (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নয়)। এক আমলার (ভিটামিন সি সমৃদ্ধ উৎস বৈঁচি) ধারণকারী ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

সোডা দ্বি carb, সঞ্চিত চুকা জিনিষ, জাঙ্ক ফুড, কলাই খাবার বা পানীয়, চকলেট, কফি বা কোকো পণ্য তৈরি কোন ভক্ষণযোগ্য নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত নয়।