সিলেট নিউজ বিডিঃ ‘মানবিকতার সাধনায় বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব’ এমন শ্লোগান নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সিলেটে শুরু হচ্ছে ১০ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব। সিলেট নগরীর আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এ উৎসব শুরু হবে ২২ ফেব্রুয়ারি। একটানা চলবে ৩ মার্চ পর্যন্ত।
‘মানবিকতার সাধনায় বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব’ এমন শ্লোগান নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সিলেটে শুরু হচ্ছে ১০ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব। সিলেট নগরীর আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এ উৎসব শুরু হবে ২২ ফেব্রুয়ারি। একটানা চলবে ৩ মার্চ পর্যন্ত।
তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে নিজেদের মানবিকতার বিকাশ সাধনের লক্ষ্যেই বেঙ্গল ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজধানীর বাইরে সিলেটেই তারা এই প্রথম এমন বিশাল আয়োজন করছেন।
গত জানুয়ারি মাসে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের এবং মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
সাংস্কৃতিক উৎসবে ২৪, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সাহিত্য মাসিক কালি ও কলমের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ৩ দিনের সাহিত্য সম্মেলন। এ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের বিখ্যাতসব কবি সাহিত্যিকের সমাগম ঘটবে। উৎসবে থাকবে বিভিন্ন ঘরানার সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, কারুমেলা, নাটক, সিলেটের আঞ্চলিক গান ইত্যাদি। দেশ বিদেশের প্রায় ৪শ’ জন শিল্পী ও কবি-সাহিত্যিকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে সিলেট।
২২ ফেব্রুয়ারি এটির উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এমপি। এদিন মঞ্চে আরও থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী প্রমুখ।
এদিকে এই উৎসবের পরপরই ৬ মার্চ থেকে সিলেটে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে সিলেটে পৃথক আয়োজনে একই ভেন্যুতে শুরু হবে আরোও দু’দিনের আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব। এর আয়োজক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন। নেতৃবৃন্দ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উৎসবের বিষয়টি অবগত করেছেন।
আগামী ৩ মার্চ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবটির উদ্বোধন হলেও পৃথকভাবে ৬ মার্চ সিলেট অংশের উদ্বোধন হবে। সিলেট নগরীর আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ২ দিনব্যাপী এ উৎসবে থাকবে সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে প্রবাসীদের মিলনমেলায় নানা আয়োজন।
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাবৃন্দ জানান- ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সম্প্রীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগের সামাজিক সংগঠন হিসেবে ঢাকাস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭’ শীর্ষক সম্মেলন ও মিলনমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী ০৩ থেকে ০৪ মার্চ ঢাকায় এবং ০৬ থেকে ০৭ মার্চ সিলেটে এই উৎসব অনুষ্টিত হবে। ঢাকার মিরপুরে-১৪ নাম্বারের নেভী কলোনীর শহীদ মোয়াজ্জেম হলে উদ্বোধন হবে উৎসবের ঢাকার অংশ।
উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। প্রধান পৃষ্টপোষক গ্রীণডেল্টা ইন্স্যুরেন্স এর প্রধান উপদেষ্টা নাসির এ চৌধুরী ও প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার।
সিলেট কর্মসূচীর যুগ্ম সমন্বয়কারী জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এম মোমেন ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সি এম কয়েস সামি। আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব আয়োজনে সিলেটে প্রায় তিনশত সদস্য বিশিষ্ট আয়োজক ও বাস্তবায়ন কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।
মরমী সাধক হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শিতালং শাহ, সৈয়দ শাহনূর, আরকুম শাহ, বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের সংগীত ধারায় ¯œাত শ্রীচৈতন্যের পিতৃভূমি সিলেট। সিলেটের অনিন্দ্যসুন্দর নৈসর্গিক শ্যামলিমায় মুগ্ধ হয়েছেন বিশ্বখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
এই জনপদের রয়েছে আরো অনেক বর্ণাঢ্য ইতিহাস। জাতীয় উন্নয়ন ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশের যে কয়েকটি সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা তার মধ্যে অন্যতম। ব্রিটিশ ভারতে সিলেটের গুনীজনদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘শ্রীহট্ট সম্মিলনী’। তারই ধারাবাহিকতায় দেশ-ভাগের পর সিলেট বিভাগের জনগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্রীয় সংগঠন ও মিলনকেন্দ্র হিসেবে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্টিত হয় ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা’।
এর আগে এই জালালাবাদ এসোসিয়েশন ও দক্ষিণ কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশন ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করেছিল ইন্দো বাংলা সিলেট উৎসব। ওই উৎসবে ভারত ও বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার সিলেটবাসী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপরে আয়োজনকবৃন্দ প্রিয়ভূমি সিলেটেই এ আয়োজন অনেক বেশী তাৎপর্যবহ ও নন্দিত হবে মনে করেন। এ অনুধাবনের প্রতিফলনই হচ্ছে আন্তজার্তিক সিলেট উৎসব ২০১৭।
Sylhetnewsbd Online News Paper