‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই’ প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই’ প্রধান বিচারপতির এমন মন্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ বিচার বিভাগের ওপর নেই।’

প্রধান বিচারপতি এই কথা কিভাবে বলতে পারলেন এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না আমাদের চিফ জাস্টিস কীভাবে বললেন, আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই।’

সোমবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট প্রকাশ নিয়ে উচ্চ আদালত ও সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিভিন্ন বক্তৃতায় বারবার উল্লেখ করছেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তবে প্রধান বিচারপতি শুধু বর্তমান সরকারকেই দায়ী করছেন না, অতীতের কোনো সরকারই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায়নি বলেও মন্তব্য করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদের সমাপনী বক্তব্যে প্রধান বিচারপতির কথার সূত্র ধরে বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সারা বিশ্বের প্রশংসা কুড়াতে পারতাম না।

বিচার বিভাগ যে স্বাধীন এর উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি একটু আগে বললাম একজন নেত্রীর (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে মামলায় ১৪০ দিন সময় চায় আর সেটা দেয়া হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে বলেই তো এই সময়টা দিতে পারছে। নাহলে তো দিতে পারত না।’

এ সময় তিনি খালেদার সমালোচনা করে বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে দেয়া হয়েছে। সে জন্য মামলা হয়েছে। এখন সেই মামলায় কোর্টে যাওয়াই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। সাহস থাকলে মামলা মোকাবিলা করতে ভয় কিসের?’

দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই বলেও যারা চিৎকার করে তাদেরও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ‘দেখলাম অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে দেশে বাকস্বাধীনতা নেই। যারা এই রিপোর্ট করছে তাদের বলব, টেলিভিশনগুলোতে বসে বসে দিনরাত আমাদের বিরুদ্ধে সমানে কথা বলা হচ্ছে। টক শো, আলোচনা…একেবারে স্বাধীনভাবে। সরাসরি কথা বলা হচ্ছে। কই কেউ কি গিয়ে গলা টিপে ধরে। কেউ তো তা করে না। সংবাদপত্র লিখেই যাচ্ছে।’

ব্যক্তিগতভাবে মিডিয়া কারও মানহানি করলে আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এর জন্য আইনের আশ্রয় নিলে সেটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

সুশীল সমাজের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়ার স্বাধীনতা নেই, এটা যারা বলে, এই লোকগুলো একসময় মনে করত একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হলে তাদের মূল্য বাড়ে। তারা কিছু হতে পারে। তাদের সাধ আছে ক্ষমতায় আসার। জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার সাধ্য নেই। অনেকে চেষ্টাও করেছেন। মানুষের কাছ থেকে সাড়া পাননি। এরাই নানা কথা বলে বেড়ায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বদনাম করাই তাদের চরিত্র।’

সমাপনী বক্তব্যে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমামসহ সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসবের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।