ছাতকে আগাম বোরো’র বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত কৃষক

হেলাল আহমদ,সিলেট নিউজ বিডি: ছাতকে আগাম বোরো আবাদের বীজতলা তৈরীর প্রস্তুতি শুরু করেছেন কৃষকরা। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বেশ ব্যস্ততাও লক্ষ করা গেছে। ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের হাত থেকে ধানের চারা রক্ষা ও গেল মৌসুমে বন্যায় বোরো আবাদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই সময়ের কিছুটা আগেই কৃষকরা বীজতলার জমি তৈরী শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বীজও জাগ দিয়েছেন অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭শ’ হেক্টর এবং আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪হাজার হেক্টর। কৃষি অফিস সুত্র জানায়, বীজতলা তৈরী ও বপনের কাজ দ্রুতই এগুচ্ছে। ভাল ফসল পেতে ও বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি থেকে চারা বাঁচাতে চাষীদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউপির কিদ্রা গ্রামের কৃষক আলী হোসেন, দোলারবাজার ইউপির কুর্শি গ্রামের কৃষক রজব আলী, বুরাইয়া গ্রামের কৃষক আমির আলী, সিংচাপইড় ইউপির জিয়াপুর গ্রামের কৃষক দুদু মিয়া, সিংচাপইড় গ্রামের কৃষক ইনসান আলী ও দক্ষিণ খুরমা ইউপির মায়েরকুল গ্রামের কৃষক আরজ আলীসহ চাষীরা জানান, ইরি-বোরোর বীজ বপনের সময় আরো কিছুটা হাতে থাকলেও বীজতলা তৈরি ও বপনের কাজটা এবার আগে ভাগেই শুরু করেছেন। তারা জানান, বিগত দিনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুর দিকে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা পড়ে। এবারে তেমন একটা পড়েনি। শৈত্য প্রবাহের কবলে পড়ে অপরিপক্ক বোরো ধানের চারা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নষ্ট হয় বীজতলার চারাগাছ। চারা সংকটে ইরি-বোরো রোপন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তাই তারা এবার একটু আগাম বীজ বপন করছেন। এসময় বীজ বপন করলে সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া সম্ভব বলে তারা জানান।

আগাম বীজ বপন সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক বলেন, কৃষকদের এমন পদক্ষেপ ভাল। আগাম বীজ বপনের ফলে প্রচন্ড শীতের পুর্বেই বীজতলার চারা সবল হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, আগাম বীজ বপনের ফলে কৃষকরা তাড়াতাড়ি জমিতে চারা রোপন করতে পারবেন এবং বৈশাখের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এতে করে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।