মস্তফা উদ্দিন,সিলেট নিউজ বিডি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ হাসানের (১৫) লাশ দাফন করা হয়েছে। শত শত মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসার মধ্য দিয়ে (২৯জানুয়ারি) সোমবার সন্ধ্যা
৬টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। মা বাবা আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উটে আকাশ-বাতাস। হাসানের জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল ছিল।
সোমবার ভোরে হাসানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয় মৌলভীবাজার ২৫০শয্যা হাসপাতাল মর্গে। ময়নাতদন্ত শেষে ঐ দিন বিকেলে তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দেখা যায়, হাসানের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা। প্রতিবেশী ও স্বজনরা ভীড় করছেন হাসানের বাড়িতে।ছেলে হাসানকে হারিয়ে মা-বাবা বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।
আর ছোট ভাই,হারানোর শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন হাসানের বড় বোন। তাদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসানের বাবা বলেন, বড় আদরের ছেলে আমার। গত ১৮ জানুয়ারি আমার ছেলে হাসান নিখোঁজ হয়। আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে না পেয়ে পরদিন তাঁর মা থানায় জিডি করেন। এর কয়েকদিন আগে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে।
হাসান দক্ষিণ সুরমায় একটি স্কুলে পড়ত। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে গত ২৩ জানুয়ারি আমি সৌদি থেকে দেশে চলে আসি। কারও সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমার নিরপরাধ ছেলেকে যারা নির্মমভাবে খুন করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে হাসানের নির্মম মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকার সাধারন মানুষ। তারা হাসানের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ
জানিয়েছেন।
হাসানের প্রতিবেশীরা বলেন, হাসান খুব ভালো ছেলে ছিলো। কারো সাতে তার কোন বিরোধ নেই। তাঁর এমন নির্মম মৃত্যু আমরা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা তাঁর
হত্যাকারীদের দৃষ্টামূলক বিচার চাই। যাতে হাসানের মতো আর কারও এমন মৃত্যু না হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ (জানুয়ারি) রোববার রাত ৭টার দিকে নিখোঁজের ১০দিন পর উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর এলাকার আরব আলীর নির্জন টিলার ঢালু থেকে হাসানের ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার
করে পুলিশ। লাশটি সেখানে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়েছিল।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে হাসানের লাশ
পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি জোর তদন্ত করা হচ্ছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper