সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ দেশের উত্তরপূর্ব সীমান্ত অঞ্চল সিলেট। এক সময় ভারতের আসাম ভুক্ত ছিল। সুন্দরের শ্রী ভূমি সিলেট। হাওর বাওর আউল বাউল আর মরমী কবিদের চারণ ভূমি হিসেবে খ্যাত সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই, ধলাই, ধনু, কালনী, মগরা, মহাসিং মনু এসব নদী। আবার এসব নদীর কিনারাই রয়েছেন হাসন রাধারমন শীতালং শাহ, দূরবীন শাহ, রকিব শাহ, আরকুম শাহ, শেখ ভানু, সৈয়দ শাহনূর বিপ্লবী-সাধক শাহ আব্দুল করিম সহ অসংখ্য আধ্যাত্মিক গুরু সাধক। যাদের পদাবলী আজ বিশ^জুড়ে নন্দিতত। এছাড়া ওলী কূলের শিরমণি হযরত শাহ জালাল (র:) ও হযরত শাহ পরাণ (র:) এবং শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুসহ অনেক অলি আউলিয়া দুটি পাতার একটি কুড়ি পূণ্য ভূমি সিলেট অনেক কৃষ্ণলীলা সাধন করেছেন যাদের উচিলায় পূণ্যভূমি সিলেট বিশ^জুড়ে আলোচিত ও আলোকিত।
সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, বি-বাড়িয়া, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট। এই ৭টি জেলার সিংহভাগ এলাকা হাওর বাওর যাকে বর্তমান সাসংদরা হাওর বা ভাটি বলে। প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা আর বৈশি^ক জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে হাওর অঞ্চলের অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে কৃত্রিম সংকট অন্যদিকে কৃষি প্রধান এই দেশ, একমাত্র কৃষিই আমাদের জাতীয় আয়ের মূল চালিকা শক্তি। অথচ স্বাধীনতাউত্তর ভাটির কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, খরা, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদির সাথে যুদ্ধ করে করে ভাটির সুস্থ্য কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সরকার আসে সরকার যাই কিন্তু ভাটির কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। অনেক সরকার কৃষি খ্যাতে মোটা অংকের ভর্তুকী দিয়েছে কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আর সুষম বন্টনের অভাবে ভাটির কৃষক ঐ ভর্তুকীর সুফল ভোগ করতে পারেনি। একমাত্র বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতাউত্তর হাওরবাসীর কল্যাণে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বঙ্গবন্ধু ৭৫ স্বপরিবারে হত্যা হলে ভেঙে যায় বঙ্গবন্ধুর সকল হাওর পরিকল্পনা। পরবর্তীতে জিয়া তারপর এরশাদ কেউই বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি। শুধু অদূর পি-ি বধুর ঘারে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সরকার এসে ২০ বছর মেয়াদী যে হাওর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এই জন্য আমরা হাওরবাসী আপনাকে এবং আপনার সরকারকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। অপর দিকে দুঃখ জনক হলেও সত্য কৃষি প্রধান দেশে কৃষকেকর মূল্যায়ন সঠিক ভাবে না হলে উন্নত বিশে^র সাথে তাল মিলাতে জাতীর অনেক বার্ডেন হবে। অপর দিকে ক্ষতিগ্রস্থ হবে জাতীয় অর্থনীতি লোকসান দেবে কৃষক। বিশেষ করে কৃষকের এক মণ ধান ফলাতে খরচ হয় ৭০০/৮০০ টাকা কৃষক যখন বিক্রি করতে যায় তখন সঠিক বাজার মূল্য পাইনি। এমনি করে করে ছিচল্লিশ বছর যাবৎ গচ্ছা দিয়ে আসছে ভাটির কৃষক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জাতির কর্ণধার বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরী আগামী ৩০ জানুয়ারি পূণ্যভূমি সিলেট আগমণ উপলক্ষে ভাটিবাসী সমস্যায় জড়জড়িত কিছু প্রস্তাবনা আপনার নিকট তুলে ধরার মানবিক চেষ্টা করছি।
১) হাওর অধ্যোষিত সকল নদী খনন করণ।
২) বিনামূল্যে কৃষকের কাঁচামাল সরবরাহ।
৩) বিনা সুদে কৃষককে কৃষি ঋণ প্রদান।
৪) ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের কাঁচামাল সরবরাহ।
৫) স্থায়ীভাবে হাওর মহাপরিচালকল্পনা গ্রহণ।
৬) স্থানীয় কৃষকের বেরীবাধ নির্মাণ করণ।
৭) হাওর অধ্যুষিত এলাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ।
৮) তৃণমূল পর্যায়ে মিল কারখানা তৈরীকরণ।
৯) দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম উন্নতিকরণ।
১০) সকল ইউনিয়ন ডিজিটালে রুপান্তর করণ।
১১) প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইলিমেন্টারি ডিজিটাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করণ।
১২) হাওর অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা ভাটিবাসী প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে যাদের জীবন। আপনি জাতির কর্ণধার আপনার নিকট আমাদের হাওর অঞ্চলের বর্তমান কিছু তত্ত্ব উপাত্ত কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরছি। এখন বিচার বিশ্লেষণের দায়িত্ব আপনাদের। পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চলার পথ সুগম হউক সহজ হউক চলার পথে সকল বাধা।
লেখক: রওশন জলিল কোরেশী
সম্পাদক ও প্রকাশক, ভাটির শিকড়।
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:-
Sylhetnewsbd Online News Paper