সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর মধ্যনগর এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় তাহিরপুর উপজেলা সুলেমানপুর ২টি খেয়া পাড়াপার, আলম খালী খেয়া পাড়াপার, লাউড়েরগড় খেয়া পাড়াপার,ও মিয়ারচর খেয়া পাড়াপারে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে ইজারাদারগন। খেয়াঘাটে পাড়াপারের মুল্য তালিকা সু-স্পষ্ট ভাবে সাইনবোর্ড লিখে স্ব স্ব খেয়াঘাটে ঝুলানো সরকার কর্তৃক নিয়ম থাকলেও সরকার কর্তৃক নিয়ম অমান্য করে ইজারাদারগন খেয়া পাড়াপারে তাদের ইচ্ছামতো টোল আদায় করছেন।
এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, সুলেমানপুর খেয়া পাড়াপার ও বাঁশের পুল, আলম খালী বাঁশের পুল,মিয়ারচর খেয়া পাড়াপারের,ইজাদারগন একবার খেয়া বা বাঁশের পুল পাড় হলেই জন প্রতি টোল আদায় করছেন ৫ টাকা, মটর সাইকেল টোল আদায় করছেন ১০ টাকা।
দেখা যায়, মধ্যনগর কাইত কান্দা খেয়া পাড়া পার চাটাই পুলে ইজারাদারের টোল আদায় কৃত ব্যাক্তি শফিক ও তার সাথে থাকা ব্যাক্তিরা,চাটাই পুল একবার পার হলে জনপ্রতি টোল আদায় করছে ৫ টাকা, মটর সাইকেল টোল এর টোল আদায় করছে ১০টাকা। এমন কি কারো কাছে কোন কারন বসত টাকা না থাকলে অমানবিক আচরনের স্বিকার হতে হয় পথযাত্রীদের। অনুরুধ করলেও ইজারাদারদের কাছ থেকে মুক্তি মিলছে না,নানা হেনস্তার শিকার হতে হয় যাত্রীদের।
পথযাত্রীদের কাছে জানা যায়, মধ্যনগর কাইত কান্দা খেয়া পাড়াপারের ইজারাদারের টোল আদায়কৃত ব্যাক্তি শফিকের কাছ হতে অমানবিক আচরন নতুন কিছু নয়, প্রায়ই অমানবিক আচরনের শিকার হচ্ছে সাধারন পথযাত্রীর।
এছাড়াও তাহিরপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাশেঁর চাটাই বিছিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের নাম দিয়ে টোল আদায় করছে কিন্তু পথযাত্রী ও ড্রাইভার এবং স্থানিয় এলাকাবাসী বার বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। তাই এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, সড়ক পথে ভালো যোগাযোগ না থাকায় এবং নদী পথে সময় বেশি লাগার কারণে শুষ্ক মৌসুমে তাহিরপুর সড়ক পথে বিভিন্ন স্থানে পায়ে হেঁটে ও শতাধিক মোটরসাইকেল যোগে তাহিরপুর হতে উত্তর শ্রীপুর ও দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে উত্তর বড়দল ও দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এমন কি মধ্যনগর থানার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে তাকে। তাই তাহিরপুর মধ্যনগর,ধর্মপাশা, মহনগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় প্রতিদিন যাতাযাত করে শতাধিক মোটরসাইকেল।
তাহিরপুর উপজেলা সদর হতে মধ্যনগর আসতে সুলেমানপুর বাজারের পুর্ব দিকে সুলেমানপুর গ্রামের পাশে ১টি বাশেঁর চাটাই দিয়ে পাড়াপার ও বাজার পাড়ি দিয়ে পশ্চিমে পাঠলাই নদীতে খেয়া নৌকা, কাইত কান্দা খেয়া ঘাট চাটাই পুল দিয়ে পাড়াপার। এই তিনটি খেয়া ঘাটে পাড়াপার হইতে প্রতিটি খেয়ায় দিতে হয় ২০টাকা করে আবার মধ্যনগর হইতে তাহিপুর যেতে প্রতিটি খেয়া পাড় হতে দিতে হয় ২০ টাকা করে। আসা যাওয়ায় মোট টোল বাবত খরচ করতে হয় ১২০ টাকা।
ইজারাদারের টোল আদায়কৃত ব্যাক্তি শফিক মিয়ার কাছে সরকার নির্ধারিত টোল আদায়ের তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে,অমানবিক আচরনের স্বীকার হতে হচ্ছে সাধারন পথযাত্রীর। যাহা দেখার কেউ আছে বলে মনে হচ্ছে না।
এ ছাড়াও পথযাত্রীদের কাছে জানা যায়, খেয়াঘাটে ভাড়া নিয়ে পথযাত্রী প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকজন অস্লীল ভাষায় কথা বলে পথযাত্রীকে বাধ্যকরে তাদের চাহিদা অনুযায়ি টাকা দিতে। আবার অনেকেই নিজের সম্মান রক্ষার্থে কথা না বলে টাকা দিয়ে চলে যান।
এ ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা পর্যায় হতে সঠিক কোন তদারকি না থাকায়, ইজারাদাগনের দিন দিন দৌরাত্ন্য বেড়েই চলছে। এলাকাবাসী জানায় সরকার নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে টেন্ডারের মাধ্যমে একটি চুক্তিবদ্ধ হয়, যাহা মেনেই চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করে ইজারাদার।
কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তাহিরপুর ও মধ্যনগর এলাকায় অনেক খেয়াঘাট রয়েছে যা নাম মাত্র ইজারা দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগন আর ইজারাদাররা ইজারা নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। হয়রানির শিকার হচ্ছে, কৃষক, শ্রমিক ও সর্বস্তরের সাধারন জনগন।
সুশীল সমাজ প্রতিনিধি ও শ্রীপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মতিয়ুর রহমান বলেন, সরকার কতৃক নিয়ম হচ্ছে আমার জানা মতে জনপ্রতি টোল আদায় ২ টাকা মটরসাইকেল টোল আদায় ৫ টাকা কিন্তু ইজাতাদারগন খেয়াপাড়াপারে টোল আদায় করেছ জনপ্রতি ৫ টাকা মটরসাইকে টোল ১০ টাকা, যাহা সাধারন পথযাত্রীর সাথে প্রতারনা হচ্ছে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারের উচ্চতম কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি একান্ত কাম্য।
জয়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাদিউজ্জামান(ভারপ্রাপ্ত) বলেন, প্রত্যেকটি খেয়াঘাটে সরকার নির্ধারিত টোল আদায়ের তালিকা স্পষ্ট করে লিখে রাখলে সাধারন জনগন প্রতারনার স্বিকার হত না।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে অনেক চেষ্টার পরেও উনি কলটি রিসিব না করায় যোগাযোগ করা সম্বব হয়নি।
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:-
Sylhetnewsbd Online News Paper