উৎসব মুখর পরিবেশে শাহ আরেফিন (রা:)ওরস শরীফ শুরু

আহম্মদ কবির,তাহিরপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউডেরঘর এলাকায় সীমান্তের কুলঘেষে আজ হতে তিনদিন ব্যাপি ৩৬০ আওলিয়ার অন্যতম সফর সঙ্গী হযরত শাহ্ আরেফিন(র.) বৃহৎ ওরস মোবারক এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ গঙ্গাস্নান শুরু।

দুই ধর্মের পৃতক পৃতক দুইটি উৎসবে তাহিরপুর উপজেলায় এখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরু এলাকা। দুইটি উৎসবকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটছে যাদুকাটা নদি এবং সীমান্ত ঘেষা লাউড়েরঘর শাহ আরেফিন (র.) আস্তানায়।

শাহ আরেফিন (র.) অস্তানায় বাৎসরিক ওরস ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গঙ্গাস্নানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের ভীর জমে এ শাহ আরেফিন (র.) আস্তানায় এবং জমে উঠে পাগল ফকির ও ভক্তবৃন্দের ওরস মেলা।

প্রতি বছর চৈত্র মাসের চাঁদের নির্ধারীত তারিখে হিন্দু ধর্মালম্বীদের দোল পূজার ২১ দিন পর যাদুকাটা নদীর দুই তীরে হিন্দুধর্মালম্বীদের উৎসবে মুখর পরিবেশে গঙ্গাস্নান এবং বুধবার(১৪মার্চ) ভোর থেকে শাহ আরেফিন (র.) আস্তানার আসে পাশে বসবে ওরশ মেলা। প্রায় কয়েকশত বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারও সকাল থেকে একনাগারে শনিবার সন্ধা পর্যন্ত চলবে এ ওরশ মেলা।

স্থানিয়দের সুত্রে জানা যায়, গত কিছু দিন যাবৎ ধর্মাবলম্বীদের গঙ্গাস্নান ও ওরশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে পাগল ফকির ভক্তবৃন্ধ এবং সাধারন মানুষের ভীর হতে দেখা যাচ্ছে। আবার তাদের মধ্যে কিছু কিছু মানুষ মানতের সফলতার আসায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাম গঞ্জ হতে শাহ আরেফিন (র.) আস্তানায় মানত নিয়ে ওরস আস্তানায় আসছেন। সেই সাথে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাদুকাটা নদীর দুই তীরে গঙ্গাস্নান করার পূর্বে হাস, মুরগী, খাসি নদীতে ছেড়ে দিয়ে মনের ভাষনা পুরনের আসার স্নান করছেন যাদুকাটা নদিতে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও নির্ধারীত সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে ভক্তরা গরু, খাসি, মোরগসহ মানত নিয়ে ওরসকে ঘিরে ভীর জমাচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জি জানান, শাহ আরেফিন (র) আস্তানায় ও যাদুকাটা নদীর দুই তীরে প্রতি বছর ভক্তবৃন্ধসহ ভিন্নসম্প্রদায়ের মানুষও মানত নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। ওরস ও পণাতির্থ মেলাকে ঘিরে শাহ আরেফিন (র.) আস্তানায় ও যাদুকাটা নদীর তীরে ব্যাবসায়িরা তাদের বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে,গ্রাহকের অপেক্ষায় বিক্রি করার জন্য বসেছেন তাদের সার্বিক নিরাপধ এর জন্য প্রশাসনের কড়া নজরদারী একান্ত প্রয়োজন।

তিনি জানান, ছেলে-মেয়ে, নারী-পুরুষ একত্রে হয়ে মেলায় আজ সকাল থেকে কেনাকাটি চলছে শনিবার সন্ধাপর্যন্ত। শাহ আরেফিন (র.) আস্তানায় ওরশ উপলক্ষে মাজারের চারপাশে সারারাত চলবে ভক্তদের বাউলগান, দেহতত্ত্বগান, হালকা জিকির এবং মোনাজাত।

স্থানিয় সুশীল সমাজ বলেন এ সময়ে দুই সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে যাদুকাটা নদির তীরে লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে কিন্তু কিছু কিছু অসাধু চক্র প্রতি বছরই চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহনের চালকগনের দ্বারা প্রতারণার শিকার হতে হয় অতিথিদের। গঙ্গাস্নান এবং শাহ্ আরেফিন(র.) ওরস উপলক্ষে উৎসবে আসা সুনামগঞ্জ থেকে যাদুকাটা নদীর পাড় ও লাউড়েরগড় পর্যন্ত, একইভাবে মধ্যনগর থেকে লাউড়েরগড় পর্যন্ত, সুরমা নদীর বিভিন্ন খেয়াঘাটে,তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুর বাজার দুই খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হয়।

বীরেন্দ্রনগর থেকে বড়ছড়া পর্যন্ত লালঘাট এলাকায় চাটাই বিছিয়ে যাত্রীদের কাছ হতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা আদায় হয়। কাউকান্দি বাজারের পাশেই কাচা রাস্তায় চাটাই বিছিয়ে যাত্রীদের কাছ হতে চাঁদা আদায় করা হয়। একই ভাবে বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের হয়রানি করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্নেন্দু দেব এর সরকারী মোবাইল ফোনে অনেক বার চেষ্টা করলেও মোবাইল রিচিব না করায় আলাপ করা সম্ভব হয়নি।

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, শাহ আরেফিন ওরসে আসা অতিথিদের নিরাপধের জন্য আমাদের পক্ষ হতে কড়া নজরদারী রয়েছে।