প্রত্যাবাসনে ১০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর নাম চূড়ান্ত

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নতুন ১০ হাজার শরণার্থীর নাম চূড়ান্ত করছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যের আরব নিউজ এক প্রতিবদেনে এই তথ্য জানিয়েছে। জানুয়ারিতে সম্পাদিত ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের পাঠানো প্রথম ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা থেকে মিয়ানমার কেবল ৬০০ জনকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন ১০,০০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর দ্বিতীয় তালিকার কথা জানা গেল।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলের শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জয়েন্ট ওয়ার্কি গ্রুপের বৈঠকেই ওই তালিকাটি মিয়ানমারকে দেওয়া হবে। শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করতে আমরা কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের ঘুমদুমে দুটি ট্রানজিট সেন্টার তৈরি করছি। দুই মাসের মধ্যে এই কেন্দ্রগুলো কাজ করতে শুরু করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি আবুল কালাম।

উল্লেখ্য, একদিকে প্রত্যাবাসানের কথা বললেও অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরাকে ধারাবাহিক ও কাঠামোবদ্ধ সহিংস প্রক্রিয়ায় অসম্ভব করে তুলছে মিয়ানমার।

এএফপির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেখানে ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ গড়ে তোলা হচ্ছে। ওই ফরাসি বার্তা সংস্থার খবর থেকে জানা যায়, রোহিঙ্গাশূন্য বাফারজোন প্রতিষ্ঠা করতে সেখানে বৌদ্ধদের অর্থায়ন ও সেনা মদতে সংস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে আরও দীর্ঘ হয়েছে রোহিঙ্গা জীবনের অনিশ্চয়তা। বালুখালি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া সানজিদা বেগম বিবিসিকে বলেন, মিয়ানমার তাদের নাগরিকত্ব দিলে তিনি ফিরবেন। নয়তো আবার তাদের হত্যা করার চেষ্টা করা হবে। ‘এই অবস্থায় তারা কীভাবে ফিরে যাব’ প্রশ্ন তোলেন তিনি।