সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হওয়া খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরের বছর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। গত ১০ বছর ধরে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। এবার তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের কাছে এ বিষয়ে চিঠিও দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
তারেক রহমান মানিলন্ডারিং মামলায় সাতবছর ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি চিকিৎসার নামে বর্তমানে ব্রিটেনে অবস্থান করছেন। যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন এবং সেদেশের সরকারও তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের সরকার যদি তারেক রহমানকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েই থাকে, তাহলে সেদেশের সরকার কোন পদ্ধতিতে তারেক রহমানকে বাংলাদেশকে ফেরত দেবে, তা ওই দেশের সরকারের ওপর নির্ভর করছে।।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের নামে আরো মামলা চলমান রয়েছে। আমাদের সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা নিয়েছে। আমরা তাকে আইনের মুখোমুখি করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি। যেসব মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, সেই সাজা কার্যকর করতে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। আমরা সব ধরণের প্রচেষ্টাই চালাবো। এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকালে লন্ডনে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দুই মামলায় দণ্ডিত তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করার অঙ্গীকার করেছেন।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য একটি অবাধ স্বাধীনতার দেশ এবং যে কোনও ব্যক্তি এখানে আশ্রয় নিতে ও শরণার্থী হতে পারেন। তবে তারেক রহমান আদালতে একজন দণ্ডিত ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না, একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে কিভাবে যুক্তরাজ্য আশ্রয় দিয়েছে?’
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তার ছেলে তারেক রহমানকে দেওয়া হয় ১০ বছরের কারাদণ্ড। এর আগে অর্থপাচার মামলায় ২০১৬ সালের ২১ জুলাই তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানার আদেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এছাড়া, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই মামলার বিচারও শেষ পর্যায়ে আছে। এর বাইরেও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
২০০৭ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। গত ১০ বছর ধরে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper