বিগত ৯ বছরে সর্বক্ষেত্রে সফলতা এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম ও গঠনমূলক পদক্ষেপের ফলে বিগত ৯ বছরে সর্বক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। সাফল্যের ধারা আমাদের ধরে রাখতে হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বুধবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম আখতার জাহানের পৃথক দুটি প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দীর্ঘ ৬ বছরের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ জয় সম্ভব হয়েছে। মহাকাশে আজ বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। এ গৌরব আমাদের সরকারের, এ গৌরব দেশের ১৬ কোটি মানুষের। স্যাটেলাইট টেকনোলজি ও সেবা প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। স্পেস টেকনোলজির জ্ঞান সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল জাতি গঠনে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

তিনি বলেন, আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়ের উদ্যোগে মহাশূন্যে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ গ্রহণ করি। স্বপ্নের স্যাটেলাইট নির্মাণ ও এর সফল উৎক্ষেপণে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ২০১২ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ সকল প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এ জটিল নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লেগেছে ২ বছর।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামকি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় লাইব্রেরি, গবেষণা কক্ষ, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, শিশু শিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক নামাজ কক্ষ, মেহমানদের আবাসন ব্যবস্থা, বিদেশী পর্যটকদের পরিদর্শনের ব্যবস্থা, হজ যাত্রীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইত্যাদি সুবিধাসহ মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিলে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আমি এ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করি। ৯টি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১শ’টি মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ এ বছর শুরু করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট মসজিদসমূহ নির্মাণ করা হবে।