১৬নং ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী আহত, নির্বাচন কর্মকর্তা বললেন ‘নাটক’

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ডের তাতিপাড়া এলাকায় মারামারিতে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা দুজনই এখন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আহতরা হচ্ছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর ও এবারের নির্বাচনে প্রার্থী আব্দুল মুহিত জাবেদ এবং কাউন্সিলর প্রার্থী সাব্বির আহমদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার ২৪ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় দুপক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন।

তবে এ অভিযোগ পুরোপুরি নাটক বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ১৬, ১৭ ও ১৮নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন- মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এক প্রার্থীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশসহ আমি ১৬নং ওয়ার্ডের তাতিপাড়া এলাকায় যাই। সেখানে গিয়ে দেখি কাউন্সিলর প্রার্থী সাব্বিরের বাসার ভেতরে মহিলাদের নিয়ে একটি সভা চলছে। এই বাসার বাইরে কর্মীদের নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী জাবেদ ও একরাম দাড়িয়ে ছিলেন। তখন এখানে দাড়িয়ে থাকার বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান নামাজ শেষে প্রচারণার কাজ করছেন।

তিনি বলেন- আস্তে আস্তে পরিস্থিতি উত্তেজিত হতে থাকলে তিনি সাব্বিরকে ১০ মিনিটের মধ্যে সভা শেষ করার নির্দেশ দেন এবং বাকি প্রার্থীদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু, দুপক্ষ নির্দেশ অমাণ্য করে কথাকাটাকাটিতে লিপ্ত হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করেন এবং ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হন।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুপক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এখানে মারামারি কিংবা হাতাহাতির কোন ঘটনা ঘটেনি। দুই প্রার্থীই এ ঘটনা নিয়ে নাটক সাজাচ্ছেন। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে, ঘটনার ব্যপারে ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ বলেন- তাতিপাড়ার একটি বাসায় ভোটারদের মধ্যে সাব্বির ও তার কর্মীরা টাকা বিতরণ করছেন এমন খবর পান। খবর পেয়ে তিনি সেখানে যাওয়া মাত্রই তার উপর হামলা চালায় সাব্বির ও কর্মীরা। এতে তিনি হাতে এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

অপরদিকে কাউন্সিলর প্রার্থী সাব্বির আহমদ চৌধুরী বলেন- বিকালে তাতিপাড়ায় তাদের মালিকানাধীন ৪৫ নং বাসায় তিনি এলাকার কয়েকজনের সাথে বৈঠক করছিলেন। হঠাৎ সেখানে এসেই আমার উপর হামলা করেন কাউন্সিলর জাবেদসহ তার কর্মীরা। এসময় আমার ভাই সাকিব ও শিপলু আহত হয়। হামলায় আহত হয়ে তারা বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।এদিকে পুত্র সাব্বিরের উপর হামলার প্রেক্ষিতে পিতা আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল লেইস চৌধুরী মংগলবার রাতে তার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন,এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে তারা অভিত করবেন।সঙ্গবাদ সম্মেলনে লেইস চৌধুরীর ভাই প্রবাসী কয়েস চৌধুরীও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
অপরদিকে,সিলেট কোতোয়ালী থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন- মারামারির কোন ঘটনার খবর তিনি পান নি।