মোঃ আব্দুর রশিদ খান রাশেদ: ‘দুটি পাতা একটি কুড়ি’র শহর নামে খ্যাত সিলেটে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হবে ভোট উৎসব। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের ভোটারদের রায়েই আগামী ৫ বছরের জন্য মেয়রের চেয়ারে বসছেন সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। ‘ আরিফ না কামরান’ এই প্রশ্ন নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই ‘টক অব দ্যা সিটি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই হিসেবে প্রথমদিকে আরিফই কিছিটা এগিয়ে ছিলেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তবে ভোটের রাজনীতি বলে কথা, কামরান সেখানে পরিচিত খেলোয়াড়। শেষ মুহূর্তের জরিপে এসে ২৭ টি ওয়ার্ডে কামরানের পক্ষে জোয়ার বইছে বলে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। ভোট বিশ্লেষকরা বলছেন কামরানে জয় প্রায় নিশ্চিত। যে ০৭ কারণে কামরানের জয় নিশ্চিত তা সিলেট নিউজ বিডি ডট কমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:
১. তফসিল ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সকল দলাদলি ও গ্রুপিং ভুলে প্রার্থীর পক্ষে নানা স্তরে নিরলসভাবে কাজ করেছে। এতে কামরান সহজেই নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন।
২. আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বলে প্রকৃত উন্নয়নের জন্য কামরানকেই প্রয়োজন এটা জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে নৌকার পক্ষে প্রচারে নিয়োজত টিমগুলো।
৩. সিলেটের বিশাল শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে প্রাচারে সংযুক্ত করে কামরান চমক সৃষ্টি করেছেন। নগরী ঘেঁষে অবস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, মেডিক্যাল কলেজসমূহ, মদনমোহন কলেজ ও এম.সি. কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক উচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্টি ভোটার এবারে কামরানের পক্ষে প্রচারণায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুরো নগরী চষে বেড়িয়েছেন। এতে তারা ভোটারদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন আগামী পাঁচ বছরে সরকারী বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার করে কামরানই নগরীকে জঞ্জালমুক্ত একটি মডেল নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন।
৪. কামরানের নিকট দলমত নির্বেশেষে সবাই নিরাপদ থাকবেন বলে ভোটারদের প্রত্যাশা। তাঁকে নগরবাসী সুখে-দুঃখে দিন-রাত পাবেন বলে নগরবাসীর প্রত্যাশা ।
৫. সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়ন নগরবাসীকে আশার আলো দেখাচ্ছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কামরানের উপর একটা সুদৃষ্টি, বিস্বস্ততা ও ছায়া রয়েছে, সেখানে কামরান নগরীর যেকোন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ কাজে লাগাবেন বলে নগরবাসীর বিশ্বাস।
৬. ভোটের মাঠে কামরান সব-সময় নিম্নপেশাজীবীদের কাছে বন্ধু হিসেবে পরিচিত। সুখে-দুঃখে সবসময়ই তিনি তাদের পাশে ছিলেন এবং থাকবেন বলে ভোটারদের বিশ্বাস।
৭. চতুর্থ বারের সিলেট সিটির নির্বাচনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে অন্তর্কলহ ও গত ইলেকশনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কৌশলীভাবে এবার প্রচারণা চালিয়েছেন কামরান ও নির্বাচনী টিমগুলো যেখানে জামায়াতের প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করা হচ্ছে আওয়ামীলীগের জন্য প্লাস পয়েন্ট। সরকারপ্রধানের নির্দেশে একেবারে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সকল পর্যায়ে আওয়ামীলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকগণের স্বতঃস্ফূর্ততা কামরানকে চূড়ান্তে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। বিশেষ কিছু না হলে নগরপ্রধানের চেয়ারে বসা কামরানের জন্য এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র!

:লেখক ও রাজনীতিবিদ
Sylhetnewsbd Online News Paper