বড়লেখায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে পুলিশ। বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে গত ১ সেপ্টেম্বর এই মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং-০৪)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণবাজার এলাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বড়লেখা-জুড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে দুপাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যানযটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অবরোধ সরানোর কথা বললে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ দায়িত্বরত পুলিশের উপর আক্রমণ করেন। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হওয়ারও অভিযোগ আনা হয় এজাহারে।
এতে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, মামলায় যে তারিখে হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন বড়লেখায় এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
তবে স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত শনিবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়লেখায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা করে। তবে ওইদিন পৌর শহরে সড়ক অবরোধ ও পুলিশের উপর হামলার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে বুধবার (০৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. আব্দুস সহিদ খান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করে বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা। এই দিন বড়লেখায় কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি।

সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. আব্দুস সহিদ খান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৌর শহরে র‌্যালী ও আলোচনা সভা করে বিএনপি। কিন্তু সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে পুলিশ বিএনপি নেতাদের উপর এ মামলা করেছে। নেতৃবৃন্দ এ মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাসনা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদির হোসেন মিছবাহ।

শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে দায়ের করা এই মামলায় আসামী করা হয়- উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস স্বপন, পৌর বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খোকন, উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদির পলাশ, পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য ইকবাল হোসেন, বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক লোকমান হোসেন বায়েস, পৌর বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. সফিকুজ্জামান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রায়হান মো. মুজিব ও আব্দুল মালিক, উপজেলা ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মতিন ও পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শিপার আহমদকে।

এই মামলার ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. আব্দুস সহিদ খান বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা র‌্যালি ও আলোচনা সভা করেছি। সড়ক অবরোধ, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ এরকম কিছুই হয়নি। এরকম একটি মিথ্যা মামলার জন্য ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছি। হয়রানি করার জন্যই এ মামলাটি করা হয়েছে।

তবে মামলার বাদী বড়লেখা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ উদ্দিন বলেন, ওই পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়েছ। বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।