সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: বড়লেখায় ভারতীয় পাগলা মহিষের আক্রমণে দুজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সদর ইউনিয়নের গ্রামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হচ্ছেন গ্রামতলা গ্রামের ইব্রাহিম আলীর মেয়ে ফাতেমা বেগম (১৮) ও একই এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে আব্দুস শহীদ (৫০)। এরমধ্যে ফাতেমা বেগমকে সিলেটের একটি হাসপাতালে আর আব্দুস শহীদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজের খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। উৎসুক জনতাও এলাকায় ভীড় জমান। অবশেষে স্থানীয়রা দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে বৃহম্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় মহিষটিকে আটক করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।
বৃহম্পতিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মহিষটিকে দেখতে মানুষজন ভীড় করছেন। পুলিশ লোকজনকে নিরাপদে সরানোর চেষ্টা করছে। স্থানীয় লোকজন মহিষটিকে আটকের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় মহিষ নিয়ে আসে। তারা নিরাপদ রোট হিসেবে গ্রামতলা এলাকার রাস্তাটিকে ব্যবহার করে। বৃহম্পতিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে প্রায় ২০টির মতো অবৈধ ভারতীয় মহিষ পাচারের সময় একটি মহিষ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। এসময় মহিষটি গ্রামতলা গ্রামের ইব্রাহিম আলীর মেয়ে ফাতেমা বেগম ও একই এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে আব্দুস শহীদের ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে চোরাকারবারিরা বাকি মহিষগুলো নিয়ে সটকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর মহিষটি ক্লান্ত হয়ে ওই এলাকার একটি বাড়ির পাশে অবস্থান নেয়। বিষয়টি জানার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহিষটিকে দেখতে অনেকেই এলাকায় ভীড় জমান। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল আলম খান ও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস ঘটনাস্থলে যান।
এলাকার বাসিন্দা নেওয়ারুন নেছা জানান, সকাল ১১টা থেকে মহিষটি আমাদের বাড়ির পাশে বসেছিল। এর আগে দুজনকে আক্রমন করে আহত করেছে। আমরা ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকি।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রতিদিন ভারত থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা মহিষ আমাদের এলাকার রাস্তা দিয়ে নেয়া হয়।
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস জানান, বিকেল থেকে এখানে অবস্থান করছেন। মহিষটি কার তা জানতে পারেননি। মহিষের হামলায় দুজন আহত হয়েছে। এদের একজনকে সিলেট ও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ৯টায় স্থানীয়রা মহিষটিকে আটক করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
বড়লেখা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল আলম খান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জালাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মহিষটি এমন আচরণ করছে।
সিলেট নিউজ বিডি ডট কম/ম.উ/১২/১০/১৮ইং
Sylhetnewsbd Online News Paper