হুইপ শাহাব উদ্দিনের তৎপরতায় পূনরায় চান্দগ্রাম-কুলাউড়া মিনিবাস সার্ভিস শুরু

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহা-সড়কের (সওজ) কুলাউড়া-চান্দগ্রাম (ভায়া বড়লেখা ও জুড়ী) রোডে দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে মিনিবাস সার্ভিস।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন ও বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরের তৎপরতায় মিনিবাস মালিক সমিতি গত ১৫ অক্টোবর থেকে এ রোডে লোকাল বাস সার্ভিস শুরু করেছেন।

এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়েরসহ সব শ্রেণীর মানুষের নিরাপদে ও সাশ্রয়ী ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ হয়েছে।
জানা গেছে, বড়লেখার চান্দগ্রাম হতে কুলাউড়ার দুরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে বাস-মিনিবাস।
পরবর্তীতে ঘন ঘন স্টপেজ, ভাড়া বৃদ্ধি ও যাত্রী সল্পতা যাত্রীদের সাথে কিছু ড্রাইভার-হেলপারের অসদাচরণের কারণে এ লাইনের লোকাল বাস-মিনিবাস চড়তে লোকজন নিরুৎসাহী হয়ে উঠেন।

এরপর অটোরিকশার (সিএনজি) আগমন ঘটলে অল্প সময়ে এ বাহন জনপ্রিয় হয়ে উঠে। বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম থেকে কুলাউড়া পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের আঞ্চলিক এ মহা-সড়কের পুরোটি চলে যায় সিএনজি অটোরিকশার দখলে। একসময় অটোরিকশার দৌরাত্মে বাস-মিনিবাসগুলো যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে। অব্যাহত লোকসানের কারণে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মটরবাস মালিক সমিতি চান্দগ্রাম-কুলাউড়া সড়কে লোকাল বাস সার্ভিস সম্পুর্ণ বন্ধ করে দেন।

লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তি ও অনভিজ্ঞ কিশোর ছেলেরা সিএনজি আটোরিকশা চালানোর কারণে ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। বিনা কারণে ভাড়া বৃদ্ধি ও যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা কারণে মানুষজন থ্রি হুইলার অটোরিকশার ওপরও অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। অনেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরের নিকট এ রোডে লোকালবাস সার্ভিস চালুর দাবী তুলেন। তাদের তৎপরতায় বড়লেখা ও জুড়ীর মটরবাস মালিক সমিতি গত ১৫ অক্টোবর থেকে লোকালবাস সার্ভিস শুরু করেছেন।

বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর জানান, প্রায় ৫ বছর এ রোডে লোকাল মিনিবাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় মানুষজন নানাভাবে দুর্ভোগ পোহান। বাধ্য হয়ে হালকা যানবাহনে চলতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন, হয়রানী ও দুর্ঘটনার শিকার হন। গত কয়েক মাস ধরে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন স্তরের লোকজন জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপির শরনাপন্ন হন। তিনি দুই উপজেলার মটরবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা করেন। তার অনুরোধে মালিক সমিতি লোকাল বাস সার্ভিস শুরু করেছেন।

বড়লেখা মিনিবাস ষ্ট্যান্ডের জেনারেল ম্যানেজার আলাউদ্দিন আহমদ ও জুড়ীর জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান সবুজ জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ শাহাব উদ্দিনের অনুরোধে প্রায় ৫ বছর বন্ধ থাকার পর বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার মটরবাস মালিক সমিতি চান্দগ্রাম-কুলাউড়া রোডে মিনিবাস সার্ভিস শুরু করেছেন। আপাতত প্রতিদিন দুই উপজেলার ৩৭টি মিনিবাস প্রতি বিশ মিনিট পর চলাচল করছে। সিএনজি অটোরিকশার প্রায় অর্ধেক ভাড়ায় যাত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করছেন।