চলছে না, ঢাকা’র চাকাও

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: রাজধানীজুড়ে যেন পায়ে হাঁটা মানুষের মিছিল। সড়কে সড়কে হাজারও মানুষের ভিড়। ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

পরিবহন শ্রমিকদের এমন ধর্মঘটে রাজধানীর অন্যান্য রুটের মতো গুলশান, বনানী, নতুন বাজারের মধ্যে চলাচলকারী বিশেষ বাস ‘ঢাকা চাকা’ও চলাচল করছে না। অথচ রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিতের জন্য শীতাতপ বাস সার্ভিস ‘ঢাকা চাকা’ চালু হয়েছিল।

কিন্তু পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে এই বিশেষ বাস সার্ভিসও বন্ধ রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই বিশেষ বাসও চলাচল না করার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই রুটে চলাচলকারীরা। তবে হাতিরঝিলের মধ্যে চলাচলকারী চক্রকার বাস সার্ভিসটি চালু আছে।
প্রতিদিন গুলশান শুটিং ক্লাব থেকে অফিসে যাতায়াত করেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, এই রুটে যে ‘ঢাকা চাকা’ বাস চলাচল করে এটা তো স্বাভাবিক বাস নয়। এটা রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিতের জন্য শীতাতপ বাস সার্ভিস। যা বিশেষভাবে নামানো হয়েছিল। যে কারণে এটা স্বাভাবিকভাবে পরিবহন আন্দোলনে বন্ধ হওয়ার কথা নয়। তারপরও এটা গতকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই বাস সার্ভিস ছাড়া অন্য কোনো কিছু এই রুটে চলাচল করে না। ফলে এখানকার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান শুটিং ক্লাবের সামনেসহ অন্যান্য জায়গাতেও ‘ঢাকা চাকা’ বাসের কাউন্টার বন্ধ দেখা গেছে। তবে সেখানে উপস্থিত থাকা বাসের চালক এনামুল হক বলেন, ‘আমারা সবাই তো চালক। আর এটা পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন। তাই আমরাও এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। যে কারণে বাস চলাচল বন্ধ আছে।’

যদিও গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির উদ্যোগে এর বাস্তবায়ন করছিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। তবে প্রথম থেকেই শীতাতপ বাস সার্ভিসের অল্প দূরত্বেও ভাড়া ১৫ টাকা নির্ধারণ করায় যাত্রীরা অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন।

ঢাকা চাকা বিশেষ বাস সার্ভিসও বন্ধ থাকার বিষয়ে কথা বলতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একটি জরুরি মিটিং এ আছি।

তবে এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাকা চাকা বাস এখন ব্যক্তিমালিকানা কোম্পানির তত্ত্বাবধানে চলাচল করে। এর সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশেনের কোনো সম্পর্ক নেই।’
নিটল মোটরসের ‘ঢাকা-চাকা’ এই পরিবহন গুলশান বনানী এলাকায় দু’টি রুটে চলাচল করে। গুলশান শুটিং ক্লাব, গুলশান-১ ও রূপায়ন টাওয়ার হয়ে গুলশান-২ নম্বর পর্যন্ত। অপরটি বনানীর কাকলী মোড় থেকে শুরু হয়ে বনানী বাজার ও গুলশান-২ নম্বর হয়ে বারিধারার নতুন বাজার পর্যন্ত।
এদিকে সোমবার ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা বলেছেন, ঢাকাসহ দেশব্যাপী ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। সরকার এখনও ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। আমরা সরকারকে জানান দিতে চাই, সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধন না করলে আমরা গাড়ি চালাব না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, এই কর্মবিরতি আমরা বাধ্য হয়ে ঘোষণা করেছি। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাস হওয়ার আগে আমরা একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছি। আমাদের দাবি-দাওয়া সরকারকে জানিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের দাবি-দাওয়ায় কর্ণপাত করেনি। বরং আমাদের শ্রমিক ভাইদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয়া হয়েছে। যে কারণে আমাদের কর্মবিরতি চলছে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ বিষয়ে যাত্রী অধিকার আন্দোলন আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, জনগণের জোর দাবি সত্ত্বেও পরিবহন শ্রমিকদের যথেষ্ট ছাড় দিয়ে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করেছে সরকার। তবুও তারা এই আইন বাতিলের দাবি করছে। এরা আবারও দেশবাসীকে জিম্মি করে আগের আইনে ফিরে যেতে চায়, যা জনগণ কখনওই মেনে নেবে না। এদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। পরিবহন শ্রমিকরা অন্যায় দাবি নিয়ে একের পর এক জনবিরোধী কর্মসূচি পালন করলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে চুপ থাকতে দেখে আমাদের অবাক হতে হয়।

সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ পরিবহন শ্রমিকদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে :

১. সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে;

২. শ্রমিকদের অর্থদণ্ড পাঁচ লাখ টাকা করা যাবে না;

৩. সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে;

৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে;

৫. ওয়েট স্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে;

৬. সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে;

৭. গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে;

৮. সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপকহারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।