সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: যাত্রা শুরু করলো সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় অবস্থিত সিলেট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র। ছুটির দিন থাকায় পরিবারের ছোটদের নিয়ে বেড়াতে বের হন বড়রা। বিশেষ করে চাকুরীজীবিরা এদিন বেছে নেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াতে। এমনই একদিনে সিলেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে শহরতলীর টিলাগড় ইকো পার্কে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের। শুক্রবার(০২ নভেম্বর) দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এটি। নামমাত্র মূল্যে প্রবেশ করে তারা দেখতে পান বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী।
ঐ দিন বিকেল চারটায় ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ সময় সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এই ইকো পার্ক শুধু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রই নয় যেখানে রয়েছে দেশের তৃতীয় সরকারি চিড়িয়াখানাও। উদ্বোধন হওয়া চিড়িয়াখানায় দুটি জেব্রা, হরিণসহ ৯ প্রজাতির ৫৮টি প্রাণী আনা হয়েছে। ডিসেম্বরে আনা হবে বাঘও। এছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির নানা ধরনের প্রাণীও আনা হবে এখানে। যা সিলেটের বিনোদনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে যোগ হবে। এর প্রমাণ মিলেছে উদ্বোধনের দিনেই।
তবে দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণের ফলে প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। এক্ষেত্রে তারা ইকো-পার্কে দর্শনার্থী প্রবেশে নিয়ন্ত্রণসহ নানা দাবিও তুলে ধরেছেন।
দেখা গেছে, শিশু থেকে বড় সকলেই এসেছেন ঘুরতে। অনেকেই এসেছেন মোটরসাইকেলে আবার অনেকেই সিএনজি অটোরিক্সাসহ অন্য বাহনেও। সকলেই বিভিন্ন খাঁচায় আটকে রাখা প্রাণী দেখছেন। আবার কেউ কেউ প্রাণীর খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে সেলফিও তুলছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে ভীড় দেখা গেছে জেব্রার খাঁচার সামনে। তবে, হরিণের খাঁচা এলাকায় ভীড় থাকলেও তাদের দেখা মেলেনি।
এদিকে ইকো-পার্ক এলাকায় দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণ বন্ধসহ বনের ভেতরে গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছেন পরিবেশবাদীরা। একই সাথে প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থায়ী ভেটোরিনারি ডাক্তার নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মনিরুল ইসলাম জানান, ‘টিলাগড় ইকো-পার্কের ১১২ একর জায়গাজুড়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মিত। গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে দু’টি জেব্রাসহ ৯ প্রজাতির প্রাণী এ কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এরমধ্যে এর মধ্যে ২টি হরিণ, ১২টি ময়ূর, ৪টি আফ্রিকান গ্রে পেরট, ১টি গোল্ডেন ফিজেন্ট পাখি, ৩টি সিলভার ফিজেন্ট পাখি, ৩টি ম্যাকাও পাখি, ৪টি সান কানিউর, ১টি অজগর ও ৩০টি ছোট লাভ বার্ডও রয়েছে। আগামী সপ্তাহে এর সাথে সংযুক্ত হবে আরও দু’টি হরিণ। ডিসেম্বরে এখানে বাঘও নিয়ে আসা হবে।’
আগামীতে সিংহ, বিয়ার, হনুমান, বেজি, বনরুই, বাঘডাস, বনবিড়াল, শিয়াল, খেকশিয়াল, গন্ডার, এশীয় হাতি, পরিযায়ী পাখি, জলজ পাখি, বনছাগল, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, কালো ভালুক, মিঠা পানির কুমির, নীল গাই, জলহস্তী আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় জীবজন্তুর আশ্রয়স্থল হিসেবে হলেও এখানে নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও সৌদি আরব থেকে বেশির ভাগ প্রাণী নিয়ে আসা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের জন্য ৪০ প্রজাতির প্রায় সোয়া চারশ’ প্রাণী কেনা হবে, যার মধ্যে দু’শ প্রাণীই থাকবে বিরল ও নতুন। এছাড়া, এখানে প্রাণীদের স্বাস্থ্য ও নানা ধরণের সেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি থেকে চিকিৎসা ও খাদ্যের মান পরীক্ষার জন্য আধুনিকমানের উপকরণ কেনা হবে।
অক্টোবর থেকে জানুয়ারী পর্যন্ত সপ্তাহের সাতদিনই সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা এবং ফেব্রুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ সংরক্ষণ কেন্দ্র। তবে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১০টাকা ফি দিতে হবে দর্শনার্থীদের।
সিলেট নিউজ বিডি ডট কম/আ,জু/সখ/০৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ
Sylhetnewsbd Online News Paper