হেলাল আহমদ, ছাতকঃ ছাতক-দোয়ারাবাজার নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৫ আসনে এবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ শফিক উদ্দিন। ইতোমধ্যে তিনি দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। আগামী দু’একদিনের মধ্যে এটি দাখিল করবেন। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অন্যরকম আমেজ বিরাজ করছে। মনোনয়ন দাখিলের পর যাচাই-বাচাই শেষে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে এ আসনে একক প্রার্থী হচ্ছেন এমনটাই মনে করছেন দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটাররা।
জানা যায়, আগামী ৩০ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ শফিক উদ্দিন। তিনি এবার এ আসনে জোটের হয়ে লড়তে প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের হয়ে ১৯৯৬ সালে মিনার প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০১ সালে জনপ্রিয়তা জানান দিতে দলের সাবেক আমীর মরহুম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক ছাতকে আসেন। এসময় দলের দাবি ছিল মাওলানা শফিককে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে তৎকালিন চার দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার। কিন্তু জোটের স্বার্থে এ আসনে বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে মনোনীত করা হয়। পরবর্তী নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা শফিককে ছাড় দেয়া হবে বলে আশ^স্থ করে প্রধান শরিক বিএনপি। এরপর ২০০৬ সালের নির্বাচনে মাওলানা শফিক উদ্দিন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হন। কিন্তু নির্বাচন না হওয়ায় ২০০৮ সালে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন আবারো জোটের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে পরাজয় বরণ করেন। ২০১৪ সালে আ’লীগ সরকারের অধিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটিতে জোট নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারা এ নির্বাচন বয়কট করেন। ১৯৯০ থেকে শুরু হওয়া মাওলানা শফিক উদ্দিনের মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড একটি বাস্তবমুখি রুপ ধারণ করে। যা পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ, জোটের জন্য ছাড় দেয়া, রাজনৈতিক সকল কর্মতৎপরতায় আঞ্চলিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ তার নিত্য দিনের কর্মসূচিতে পরিনত হয়। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ও সাধারণ ভোটারসহ সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। এ জন্য দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা তাকে নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে মাঠে লড়তে চায়। মাওলানা শফিক উদ্দিন এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হলে এবার বিজয় নিশ্চিত বলে সচেতন ভোটার ও সমর্থকদের ধারণা।
খেলাফত মজলিস ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আখতার হোসাইন, দোয়ারাবাজার উপজেলা সভাপতি মাওলানা ফারুক আহমদ ও ছাতক পৌর শাখার সভাপতি মাওলানা ফরিদ আহমদ বলেন, ছাতক-দোয়ারা ও ছাতক পৌর শাখায় প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে সংগঠনের মজবুত কমিটি। সংগঠনের জন্ম লগ্ন থেকেই এসব এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকান্ড চলে আসছে। জোট শরিকদের সাথে রয়েছে তাদের আন্তরিক সম্পর্ক। জোট বা ফ্রন্ট যদি খেলাফত মজলিসকে এ আসনে মুল্যায়ন না করে তবে সংগঠনের কেন্দ্রিয় সিদ্ধান্তের আলোকে সংগঠনের নিজস্ব প্রতিকে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। দলের বাস্তব অবস্থা ও ছাতক-দোয়ারা ও দেশবাসীকে জানান দিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময় সফর করেন আমীরে মজলিস, সাবেক মন্ত্রী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইসহাক, মহাসচিব ডক্টর আহমদ আবদুল কাদের, নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন। ছাতক ও দোয়ারাবাজারের পৃথক সম্মেলনে দলের আমীর ও মহাসচিব মাওলানা শফিক উদ্দিনকে এ আসনে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেন। নেতৃবৃন্দরা এ আসনে বিএনপিকে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি ছাতক ও দোয়ারায় দীর্ঘদিন ধরে তিন বলয়ে বিভক্ত রয়েছে। তাই এ আসনে ঐক্যফ্রন্টকে বিজয়ি করতে হলে মাওলানা শফিক উদ্দিনের কোন বিকল্প নেই।
এদিকে, এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রিয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে তৃনমুল নেতা-কর্মীদের নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। পাশাপাশি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের সমর্থনে তিনি সভা, সামাবেশ, গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তার দৃষ্টিতে বিএনপির হারানো এই আসনটি পুনরুদ্ধারে দল তাকেই মনোনয়ন দিবে। এছাড়া এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীও শক্তিশালি অবস্থানে মাঠে রয়েছেন। তিনিও দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। তার দাবি এবার এ আসনে দলীয় হাইকমান্ড তাকেই মনোনয়ন দেবেন। অপরদিকে, এ আসনে ২৩ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা আবদুস সালাম আল মাদানি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার কথা থাকলে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহ বা নির্বাচনে অংশগ্রহনের ব্যাপারে কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে জোটের স্বার্থে জামায়াতে ইসলাম এ আসনটি ছাড় দিতে পারে এমন গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper