শাহ আরফিন টিলায় আবারও ধস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন গৌছ আলী

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় টিলা ধসে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল ১০টায় অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে গৌছ আলী (২৮) নামে এক পাথর শ্রমিক আহত হন। তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহত গৌছ আলী সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবুল নগর গ্রামের মৃত আজই মিয়ার ছেলে ইসনাত আলীর মালিকানাধীন গর্তে এ ঘটনা ঘটে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান গুরুতর আহত গৌছ আলীকে ওসমানী হাসপাতালে রেফার করলেও বর্তমানে তিনি জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া হাসপাতালের নিউরোলজী বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন। আহত গৌছ আলী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন, বর্র্তমানে তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক আহত হওয়ার পরপরই মাইকিং করে শাহ আরফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন না করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অন্যথায় পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারী প্রদান করেন।
গত ১১ নভেম্বর উক্ত শাহ আরফিন টিলায় পাথর ধসে সোনাই মিয়া সুনু নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সেই শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হুশিয়ার আলী ও ইসমাাইল আলীসহ ৮ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। মৃত্যুর ঘটনার দু’সপ্তাহের মধ্যে আবারও পাথর ধসে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। গত ২৪ নভেম্বর শনিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জীর নেতৃত্বে শাহ আরফিন টিলায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে ২৫টি ট্রাক্টর গাড়ি, ১টি বোমা মেশিন ও ৬টি লিস্টার মেশিনও ধবংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ছিল ২০ লক্ষ টাকা।

বারবার শ্রমিক মৃত্যু, উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলার পরও কার ইন্ধনে শ্রমিকরা ঝূঁকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলন করছেন- এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।