মোঃ আশরাফুর রহমানঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ২৮ নভেম্বর বুধবার। ঐ দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনন্দ মুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সকাল ৯ টা থেকে শুরু হওয়া জমাদান কার্যক্রম চলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। মনোনয়ন জমা উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে ভীড় করেন প্রার্থীদের ভক্ত সমর্থকরা। দিন শেষে সবমিলিয়ে সিলেটের ৬টি আসনে ৬৬জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন বলে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়।
সিলেট-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১১ প্রার্থী। সিলেট জেলা রিটানির্ং কর্মকর্তা কাজী এমদাদুল ইসলামের কাছে একে একে তারা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। এসময় তার বড় ভাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও তার সাথে ছিলেন।
সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও বেসরকারীকরণ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী এবং দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাসদের উজ্জল রায়, জাপার মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের রেদওয়ানুল হক, ইসলামী ঐক্যজোটের ফয়জুল হক, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইউসুফ আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থি আনোয়ার উদ্দিন ও মাওলানা নাসির উদ্দিন।
সিলেট সদর উপজেলা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসন। এ আসনটি মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে সব রাজনৈতিক দলের কাছে বিবেচিত। এ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন; সেই দল সরকার গঠন করে। স্বাধীনতা পরবর্তী সবকটি নির্বাচনেই এর প্রতিফলনও ঘটেছে।
সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরপর দুই মেয়াদে তিনি সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
সিলেট-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি, জাতীয়পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য দলের ১২ প্রার্থী। এদের মধ্যে ‘নিখোঁজ’ বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী এবং ছেলেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে, আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়ায় আওয়ামী লীগ কোন প্রার্থী দেয়নি।
এর মধ্যে জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া, ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী বিএনপি চেয়াপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার ছেলে আববার ইলিয়াস, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. মুশাহিদ খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মনোয়ার হোসেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কাজী আমিনউদ্দিন, গণফোরামের মোকাব্বির খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. এনামুল হক সরদার, মোহাম্মদ আব্দুর রব, মো. হাবিবুর রহমান মনোনয়ন পত্র জমা দেন। এ আসনে খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮০ জন। তন্মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৪৫ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৫ জন। সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এম ইলিয়াস আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সিলেট-৩ আসনের মোট ১৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা আলহাজ্ব এম এ হক, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, ব্যারিস্টার এম এ সালাম, জাতীয় পার্টি নেতা ওসমান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান, ইসলামি আন্দোলনের আব্দুল মতিন বাদশাহ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির উছমান আলী ও তোফায়েল আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী জুনায়েদ মোহাম্মদ, শাহেদ আহমদ ও মো. আব্দুল ওদুদ। এ আসনে খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইন মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ এ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ নির্বাচনী আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ২২ হাজার ২৯৩ জন। তন্মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৫ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৮ জন।
সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী । এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। আর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সিলেট-৪ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ৭জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম, সামছুজ্জামান জামান, জাতীয় পার্টির এটিইউ তাজ রহমান ও এম ইসমাইল আলী আশিক, জমিয়তের মাওলানা আতাউর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোজ কুমার সেন।
সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা তিনটি নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। এ আসনের সর্বমোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৪০১ জন। তন্মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০১ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ জন।
সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের ইমরান আহমদ। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। আর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দিলদার হোসেন সেলিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সিলেট-৫ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের ১২জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার, ২০ দলীয় জোটের পক্ষে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপির মামুনুর রশীদ, শরিফ আহমদ লস্কর, জাপার এমএ মতিন চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ওবায়দুল্লাহ ফারুক, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা নুরুল আমিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়জুল মুনীর চৌধুরী, আহমদ আল ওয়ালী, বাহার উদ্দিন আল রাজি, মো. শহীদ আহমদ চৌধুরী।
সীমান্তবর্তী কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসনের সর্বমোট ভোটার ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩১২ জন। তন্মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ১২১ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৯১ জন।
সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিনা ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমদ মজুমদার এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিকল্পধারার শমসের মুবিন চৌধুরী বীরবিক্রম, ২০ দলীয় জোটের পক্ষে জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান, জাপার সেলিম উদ্দিন, বিএনপির ফয়সল চৌধুরী ও হেলাল খান, ইসলামী ঐক্যজোটের মোহাম্মদ আব্দুর রকিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আসাদ উদ্দিন আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গির হোসেন মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসনের সর্বমোট ভোটার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮৫ জন। তন্মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৯ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৬ জন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২ ডিসেম্বর। বৈধ প্রার্থীরা আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। পরদিন ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রার্থীরা ১১ ডিসেম্বর থেকেই প্রচারে নামতে পারবেন। ভোটগ্রহণ আগামী ৩০ ডিসেম্বর।
Sylhetnewsbd Online News Paper