ছাতকে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সংস্কারে কর্তৃপক্ষ উদাসীন!

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: ছাতকের বিভিন্ন এলাকায় পিডিবি’র বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খুঁটির দূরত্ব বেশী হওয়ায় সঞ্চালন লাইন ঝুলে আছে বিপদজনকভাবে নীচু অবস্থায়। এসব এলাকায় নিরাপদ খাম্বার পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের খুঁটি, সুপারি ও কদম গাছ। ফলে মারত্মক ঝুঁকির মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০হাজার গ্রাহক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব পুরাতন লাইন বিভিন্ন সময়ে ঝড় বৃষ্টিতে ছিড়ে পড়ে শিক্ষক, শিশু, যুবক, কৃষক ও মাঝিসহ ১২ ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে খুঁটি থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে নেমে যাওয়ায় ফলে শতাধিক গরু, ছাগল ও মহিষ বিদুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিদুৎ লাইনে একাধিক ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ যেন এব্যপারে উদাসীন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ইসলামপুর, নোয়ারাই ও কালারুকা ইউনিয়নে আবেদন-নিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারের কাজ চললেও অধিকাংশ এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা এর কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। প্রতিনিয়ত ঘটা এসব দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে অন্তত ৩০বছরের পুরানো এসব ঝুঁকিপুর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের পুনসংস্কারের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পিডিবি’র বিদু্যুৎ সরবরাহ করা এসব এলাকায় পাকা খুঁটির পাশাপাশি বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। কোন-কোন গ্রামে গাছে পেছিয়েও বিদ্যুত লাইন এক স্থান থেকে অন্যস্থানে সঞ্চালন করা হয়ছে। বাঁশের খুঁটি ও গাছ ব্যবহার করে বিদ্যুত লাইন টানার ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন মানুষ। এছাড়া পিডিবি মিটার রির্ডার পদে কিছু খন্ডকালীন লোক নিয়োগ দেয়ার পর সাময়িক বিলের কাগজে কিছুটা বৈধতা ফিরে আসলেও বর্তমানে কোন কিছু তোয়াক্কা না করে ডিজিটাল মিটারের অযুহাত দেখিয়ে ভালই কালাতিপাত করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কয়েক সহ¯্রাধিক সাধারণ গ্রাহক।

জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী যে খুঁটিতে এলটি লাইন থাকে সেই খুঁটি থেকে ১শ’ ফিট পর্যন্ত আশেপাশের লোকজন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসতে পারে। এক্ষেত্রে বাঁশের খুঁটি ব্যবহারের কোন নিয়ম নেই। এরপরও নিয়মবহির্ভূত ভাবে পুরো উপজেলায় অন্তত ২ হাজার বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দুর্নীতির মাধ্যমে স্থানীয় একটি মহলের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সরকারের বরাদ্ধকৃত টাকা ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে পাকা খুঁটির পরিবর্তে বাঁশ ও গাছের খুঁটিতে বিদ্যুৎ লাইন দিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। উত্তর খুরমা ইউনিয়নের দাহারগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী, খছরু মিয়া ও আলমপুর গ্রামের বিশিষ্ট সাংবাদিক, ছাতক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি জানান, তাদের এলাকায় অন্তত ৩ থেকে ৪ শতাধিক বাঁশের খুটিতে ঝুকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি একাধিকবার জানালেও বাঁশের খুঁটি বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের নজরে পড়ছে না। দুর্নীতি আড়াল করতেই বিষয়টি তারা আমলে নেননি। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন বলে তারা জানান।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বর্তমান সরকার শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিদ্যুৎ সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে দুর্নীতি-অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি আরো বলেন, লাইন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে জরুরী ভিত্তিতে মালামাল বরাদ্ধের জন্য এরআগে একাধিক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। সম্প্রতি ৩টি ইউনিয়নের পুরাতন লাইন সংস্কারের কাজ চলছে। এখনো যেসব এলাকায় ঝুঁকিপুর্ণ বাঁশের খুটি অপসারণ করা হয়নি দ্রুত অপসারণ করে সরকারি খুঁটি প্রতিস্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

এব্যাপারে ছাতক পিডিবি’র নিবার্হী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন সরদার ও সহকারি প্রকৌশলী আলা উদ্দিনের সাথে কথা হলে জানান, ইসলামপুর, নোয়ারাই ও কালারুকা ইউনিয়নে পুরাতন লাইন সংস্কারের কাজ চলছে। কিছুদিনের মধ্যে অন্যান্য এলাকায় ঝুঁকিপুর্ণ বিদ্যুৎ লাইন ও বাঁশের খুঁটি পরিবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।