আব্দুল হাদী: সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) উপজেলার আওয়ামীলীগ তথা মহাজোটের নেতারা রাজনীতিতে থাকলেও দায়িত্বের কোন চেয়ার নেই কারো। দুটি উপজেলার চেয়ারম্যান রয়েছেন বিএনপির। তাছাড়া বিশ্বনাথ এবং ওসমানীনগর উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে বেশিরভাগ চেয়ারম্যান রয়েছেন বিএনপি এবং স্বতন্ত্রের। এবারের নির্বাচনে শেষ আশা ছিলো মহাজোটের কেউ এখানকার সংসদ সদস্য হবেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাও হারাতে হয়েছে।
২০১৪ সালের নির্বাচনে এখানকার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধূরী এহিয়া। কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন মহাজোটের একাংশের কিছু নেতাকর্মী । এবারের নির্বাচনে মহাজোটের হয়ে তিনি অংশ গ্রহন করলেও শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হতে পারেননি।
এ ব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধূরী এহিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন , এ আসনটিতে মহাজোটের মধ্যে নানা সংকঠ রয়েছে। এছাড়াও আমি পাঁচ বছর মানুষের সাথে থেকে এলাকার উন্নয়ন কাজ করেছি এবং আগামীতেও থাকবো। জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে এবং তারা তাদের ভোট দিয়ে অন্য প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে এটা তাদেরই প্রাপ্তি।
সিলেট-২ আসনে ২০০৮ সালে নির্বাচীত হয়েছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী । কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি আর প্রার্থী হতে পারেননি । একাদশ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সিলেট-২ আসনের প্রার্থী হচ্ছেন এবং তার সাথে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ছিলো যুক্তরাজ্যে আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারো মনোবাসনা সফল হয়নি।
উভয় নেতা মহাজোটের হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে না পারলেও, শেষ পর্যন্ত মহাজোট থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন সাবেক সাংসদ এহিয়া চৌধুরী। দু’জনের মধ্যে কাউকেই মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ গ্রহন করতে দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলার একাধিক আ’লীগ নেতার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন , আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবং শফিক চৌধুরী উভয়ই মহাজোটের পক্ষে কাজ করেছেন। কিন্তু মহাজোটের নির্ধারিত প্রার্থীর পক্ষে ভোটের রায় না হওয়াতে এ আসনটি হারাতে হয়েছে।
রাজনীতিতে এগিয়ে থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন চেয়ারে না থাকায় অনেকটা এলোমেলো ভাবে চলছে সিলেট-২ আসনের মাহজোটের রাজনীতি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড স্থানীয় সরকারের
অধীনেই হয়ে থাকে এবং উপজেলা পরিষদ থেকে বন্টন করা হয়।
কাজের ব্যাপারে মাহজোটের নেতাকর্মীদের ধরনা দিতে হয় চেয়ারে থাকা বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান যারা আছেন তাদের কাছে।এছাড়াও নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানাযায় . মহাজোটের কেউ দায়িত্বে না থাকার কারনে দায়িত্ব প্রাপ্তরা নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বজন প্রীতি করে থাকেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিলো মহাজোটের শেষ ভরসা কিন্তু এ আসন থেকে মোকাব্বির খান বিজয়ী হয়েছেন । তিনি গণফোরমের সংসদ সদস্য হলেও এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ড কতটুকু করতে পারবেন সেটাই প্রশ্ন বিদ্ধ। তাছাড়া আওয়ামীলীগ তথা মহাজোটের কেউ দায়িত্বের কোন আসনে না থাকায় উন্নয়ন বঞ্চিত হবে সিলেট-২ আসন এমনটাই মনে করছেন উপজেলার অনেকে।
এ ব্যাপারে ওসমানীনগর উপজেলার আওয়ামীলীগ সভাপতি আতাউর রহমান বলেন , নেতৃত্ব নিয়ে মতানৈক্য , প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রতিহিংিসা এসব কারনেই ওসমানীনগর-বিশ্বনাথে এরকম হয়েছে। তাই শেখ হাসিনার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
Sylhetnewsbd Online News Paper