ডাকসু নির্বাচনে শুভ কামনা ও শাবিপ্রবির ছাত্ররাজনীতি

মোঃ আব্দুর রশিদ খান রাশেদ: সমসাময়িক সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দুই নিখাঁদ ছাত্রনেতা, ছাত্রসমাজের সহায়ক, মানবিক ও ক্যাম্পাসের প্রিয় মুখ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ভিপি ও জিএস পদে প্রার্থী করায় ছাত্রসমাজের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হবে বলে বিশ্বাস করি।
পাশাপাশি এটাও বলতে চাই, দেশের ছাত্ররাজনীতির প্রেক্ষাপটে – শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রতিক্রিয়াশীল পরিবেশে জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সমর্থকরা প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন করেছিল সে ত্যাগ বিবেচনায় নিলে এখানকার ছাত্রনেতৃবৃন্দ জাতীয়ভাবে মূল্যায়ন পায় নি। মূলত ঢাকার এককেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতি এখানকার ছাত্ররাজনীতিকে বিকশিত হতে দেয় নি। যদিও শিক্ষা ও গবেষণায় শাবিপ্রবি এখন দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এগিয়ে। ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠির সংঘবদ্ধ কুটচাল ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুপ্ত আঘাত এখানকার প্রগতিশীল চর্চাকে বারবার কষাঘাত করেছিল। বিষয়গুলো আওয়ামীলীগের উপর মহল জানলেও স্বার্থের রাজনীতির জন্য কেউ গণতন্ত্রের মানসকণ্যার নিকট পৌঁছান নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শাবিপ্রবি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকল জাতীয় সংকটে ‘নূর হোসেন’ এর মত বুকে পাহাড়সম সাহস ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। ওয়ান ইলেভেনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে গনতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদে স্বৈরাচারশাসক ও চার দলীয় জোট সরকারের আশির্বাদপুষ্ঠ রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পরেছিলাম আমরা । ১/১১ এর সেনাশাসনের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে তৎকাকীন সেনাশাসকরা আমাদের ছাত্রনেতৃবৃন্দের উপর রাষ্ট্রদোহী মামলা দিয়ে বাকরুদ্ধ করতে চায়। অবশেষে ২০১১ সালে প্রতিক্রিয়াশীলদের গড়ে তোলা সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২১ বছর পরে আমরা চূড়ান্ত সফলতা লাভ করি। যদিও ইতোমধ্যে আমরা অনেকেই শাবিপ্রবি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে মনোনীত হয়েছি। তবুও বলতে হয়, দিন বদলাচ্ছে-দিন বদলাবে এখানকার ছাত্ররাজনীতি এক সময় জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এটা নিশ্চিত।

লেখক: সাবেক কেন্দ্রীয়কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।