ভারতের মসনদে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছেন মোদি

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ ভারতে লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট বিপুল জয় পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ভোট গণনার পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বিপুল জয়ের খবর আসতে শুরু করে।

স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছেন। ভারতের মসনদে তিনিই থাকছেন এবং আরও শক্তিশালী হয়ে আসছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী এনডিএ জোট ৩৪৯, ইউপিএ ৯২ এবং অন্য সব দল ১০১টি (এসপি+বিএসপি ২৩, বাকিরা ৭৮) আসন পেতে যাচ্ছে।

মোদির নেতৃত্বে বিজেপি জোটের সুনামি জয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইউপিএ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন জোটের ভরাডুবি হয়েছে। তবে এনডিএ জোটের জয়ের আভাস আগেই পাওয়া যায়। সাত ধাপের ভোটগ্রহণের শেষ দফায় ১৯ মে সন্ধ্যার পর বুথফেরত ১৪টি জরিপের মধ্যে ১২টিতেই এনডিএ জোটের জয়ের আভাস ছিল।

এনডিএ জোটের অভাবনীয় সাফল্যে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতজুড়ে জোটের নেতাকর্মী-সমর্থকরা আনন্দ-উল্লাস করেছে। রাস্তায় নেমে ঢাকঢোল পিটিয়ে নেচে-গেয়ে তারা আনন্দে মাতেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখোশ পরে কেউ কেউ উল্লাস প্রকাশ করেন। বড় বড় শহরের রাস্তায় বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে বিজেপি জোটের নেতাকর্মীরা। উল্টোদিকে বিরোধী শিবিরে শুধুই হতাশা। শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরোধী শিবিরে।

এনডিএ জোটের বিশাল জয়ের মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদির ‘আব কি বার ৩০০ পার’ স্লোগানই সত্য হতে চলেছে। বিজেপি এককভাবেই ৩০০টি আসন পেতে যাচ্ছে। নির্বাচনে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস বিরাট বড় ধাক্কা খেয়েছে। কংগ্রেস জোটের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

মমতা ব্যানার্জি, চন্দ্রবাবু নাইডু ও মায়াবতী-অখিলেশদের জোটের অবস্থাও ভালো নয়। এদিকে নরেন্দ্র মোদির টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের সম্ভাবনায় ভারতের পুঁজিবাজারের সূচক বৃহস্পতিবার ইতিহাসের প্রথমবারের মতো ৪০ হাজার পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করেছে।

দল ও জোটের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করেছেন। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘ভারত আবারও জয়ী হল।’ পরাজয় মেনে নিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি, মোদির সঙ্গে যে আদর্শিক লড়াই তার চলে আসছে, তা একইভাবে চলবে বলেও জানান তিনি।

রাহুল বলেন, আজ যা ঘটেছে তা হল, জনগণ নরেন্দ্র মোদিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাদের এ সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি টুইট করেছেন। জয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সব পরাজিতরাই পরাজিত নয়।’ খবর আনন্দবাজার, বিবিসি, হিন্দুস্থান টাইমস, এনডিটিভি ও রয়টার্সের।

দ্বিতীয়বারের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে যাওয়া মোদি একই সঙ্গেই ইতিহাসে ঢুকে পড়েছেন। ভারতের ইতিহাসে মোদি হতে চলেছেন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি পরপর দু’বার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন। অর্থাৎ কোনো জোট বা শরিক দলের সাহায্য ছাড়াই সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার (২৭২) ছাড়িয়ে গেছে কোনো দল।

এর আগে জওহরলাল নেহরু পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেসের হয়ে। ১৯৬৭ সাল ও ১৯৭২ সালে পরপর দু’বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। এ দু’বার একাই ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। ভারতের ১৯৫১-৫২ সালে ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন হতে তিন মাস সময় লেগেছিল।

ভারতে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি। ১,৮৪১টি রাজনৈতিক দলের ৮০০০-এরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এতে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৭২০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের চারজন প্রার্থী হয়েছিলেন। ভারতের সপ্তদশ লোকসভার ৫৪২টি আসনে ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সাত দফায় ভোটগ্রহণ করা হয়।

দেড় মাস ধরে নির্বাচনে নানা হিংসাত্মিক ঘটনা ঘটে। অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। শেষ দফা ভোটগ্রহণের পর ১৪টি বুথফেরত জরিপের মধ্যে ১২টিতেই আভাস মেলে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবারও সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তবে জরিপগুলোতে ওই জোটের ২৮২ থেকে ৩৬৫টি আসন পাওয়ার আভাস মেলে।