সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ: আল্লাহ বিধান ও তার প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস ধারা প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি মুসলমানদের উপর সদকাতুল ফিতর (ফিতরা) ফরজ করেছেন। আর তা হল এক স্বা‘খেজুর বা একস্বা‘ যব। সকল মুসলমানদের ঈদেরসালাতের (নামাজের) উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে তা আদায় করার আদেশ দিয়েছেন।
দুই সহীহ গ্রন্থে (অর্থাৎবুখারী ও মুসলিমে)আবু সা‘ঈদ আলখুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন : “আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে সদকাতুল ফিতর হিসেবে এক স্বা খাদ্যদ্রব্য অথবা এক স্বা‘ খেজুর অথবা এক স্বা‘ যব অথবা এক স্বা‘কিসমিস প্রদান করতাম।”[বুখারী]
এ বছর ব্যক্তিপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ এক হাজার ১৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় ফিতরা কমিটি ব্যক্তিপ্রতি ফিতরার ওই পরিমাণ নির্ধারণ করে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দীন জানিয়েছেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী আটা, খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যব ইত্যাদি পণ্যগুলোর যেকোনো একটি দ্বারা ফিতরা প্রদান করা যাবে।
মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উপরোক্ত পণ্যগুলোর যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজারমূল্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে পারবেন।
সিদ্ধান্তে বলা হয়, আটা ফিতরা আদায় করলে অর্ধ সা’ বা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ৭০ (সত্তর) টাকা প্রদান করতে হবে। যব দিয়ে আদায় করলে এক সা’ বা তিন কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজার মূল্য ৫০০ (পাঁচশ) টাকা, কিশমিশ দিয়ে আদায় করলে এক সা’ বা তিন কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ১৩২০ (এক হাজার তিনশ বিশ) টাকা, খেজুর দিয়ে আদায় করলে এক সা’ বা তিন কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ১৬৫০ (এক হাজার ছয়শ পঞ্চাশ) টাকা ও পনির দিয়ে আদায় করলে এক সা’ বা তিন কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ১৯৮০ (এক হাজার নয়শ আশি) টাকা ফিতরা প্রদান করতে হবে।
নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো একটি পণ্য বা এর বাজারমূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতরা আদায় করা যাবে।
এসব পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজারমূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।
অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মো. আবদুল কুদ্দুছ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আলমগীর রহমান, ঢাকা নেসারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি কাফীলুদ্দীন সরকার, ফরিদাবাদ মাদ্রাসার ফাতওয়া বিভাগের পরিচালক মুফতি আবদুস সালাম, কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ড. মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সালাম, দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক আনিছুর রহমান সরকার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রমুখ।
(সূত্র-এনটিভি)
Sylhetnewsbd Online News Paper