শেষ মেয়াদে (২০১৮-১৯ অর্থবছর) ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেয়ার লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। গতকাল ১৮ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীনের সময় আমাদের দেশের ৭০ শতাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো। এখন সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তিনি বলেন, কিছু লোক আছে সর্বদাই রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল থাকে। এই হার ১০ থেকে ১৪ শতাংশ। এরা হলেন প্রবীণসহ অসহায় কিছু লোক। এরা সবসময়ই রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষ এখন বিশ্বাস করে না যে জীবন ধারণ কষ্টসাধ্য, তারা মনে করে জীবন ধারণের মান আরও উপরে উঠবে। ২০৪১ সালের মধ্যে জীবনমান অনেক উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী অর্থবছরেই বাজেট উপস্থাপন বেশ বদলে যাবে। এই সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেট হবে ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। এরজন্য কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র সংকোচন করে জেলায়, জেলায় পাঠিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতিবিদদের বড় ব্যর্থতা, তবে আশাকরি এটা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো। তিনি বলেন, লক্ষ্য ছিল মুক্ত বাজার অর্থনীতি। মুক্ত বাজার আজও প্রতিষ্ঠা পায়নি, হয়তো ২০৩০ সালে মুক্ত বাজার প্রতিষ্ঠা পাবে। মুক্ত বাজার অর্থনীতি না হওয়ার কারণ আমাদের রাজনৈতিক অবস্থা ও প্রেক্ষাপট সেভাবে ছিল না। মুক্ত বাজার কোন ধরনের কাষ্টম শুল্ক থাকবে না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতির একটি শক্ত অবস্থান হল বৈদেশিকে রেমিটেন্স। কিন্তু এই রেমিটেন্সকে আমরা আরো অনেক বেশী বাড়াতে পারব। যখন স্কিল ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রামটি কার্যকর হবে। এই প্রোগ্রামের জন্য আমরা এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা স্কিল পারসনাল তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এজন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে উদ্যোগটি এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এটাতেই গৃহীত রয়েছে আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
স্কিল ইমপ্রুভমেন্ট না করলে আমরা যেসব সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখছি সেটা পূরণ হবে না। আর এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আরেকটি বিশেষ দিকের দিকে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশের জনগণই তার শক্তি। বাংলাদেশের এক একটি জেলাতে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখের মত লোক আছে। পৃথিবীর প্রায় ৬০টি দেশের জনগণ এই সংখ্যার নিচে। আমাদের অবশ্য এলাকা কম। তবুও এসব এলাকায় যে জনগণ আছে পৃথিবীর প্রায় ৫০টি দেশের আয়তন তার চেয়েও ছোট। অর্থাৎ ঢাকা ও চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে বস্তুতপক্ষে ৬৪টি দেশ আছে দেশের মধ্যেই। এই দেশগুলো যাতে উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য তাদের ক্ষমতায়ন করতে হবে।
অর্থ্যাৎ আমাদের জেলা কাউন্সিল ও জেলা পরিষদগুলোর ক্ষমতায়ন ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে এবং আমাদের কেন্দ্রীয় যে ব্যুরোক্রেসি বা আমলাতন্ত্র আছে। তা সংকোচন করে তার একটি বড় অংশকে জেলায় জেলায় পাঠিয়ে দিতে হবে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ রাজনীতিবিদদের জন্য। এখানে বাধা বিপত্তিগুলো আসবে। কিন্তু সেগুলো অসম্ভব রকমের স্বার্থহানা বাধাবিপত্তি। এই বাধা বিপত্তির উর্দ্ধে আমাদের উঠতে হবে।
Sylhetnewsbd Online News Paper