হাওরাঞ্চলে সচেতনতার অভাবে করোনার ঝুঁকি নিয়েই বসবাস

আহাম্মদ কবির,তাহিরপুর হতেঃ টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওর আশপাশের নিন্মআয়ের অবহেলিত জনগোষ্ঠী সচেতনতার অভাবে করোনা ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন। সরকারি বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী এনজিও থেকে সচেতনতার জন্য অদ্যবর্ধি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি এই হাওরাঞ্চলে ।যার ফলে করোনাভাইরাস কী? মাস্ক কেন ব্যবহার করতে হয়? সঙ্গরোধ (হোম কোয়ারেন্টাইন) কী? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর জানেন না সুনামগঞ্জ দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওর পারে বসবাসরত নিন্মআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেকেই। যেকারণে করোনা নিয়ে এসব হাওর বাসীর মধ্যেও নেই তেমন কোন আলোচনা।

তথ্য সুত্রে জানা যায়, তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার শ্রীপুর উত্তর, শ্রীপুর দক্ষিণ, বংশিকুন্ডা উত্তর, বংশিকুন্ডা দক্ষিণ এই চারটি ইউনিয়ন জুড়ে বিস্তৃত হাওরের চারপাশে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সংস্কৃতির প্রায় ৬০,০০০ হাজার মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে অনেকেই হতদরিদ্র আনে নিত্য খায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতে আপাতত জনসমাগম এড়িয়ে চলাই এ রোগ প্রতিরোধের উপায়। তাতে করে এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু বাংলাদেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) টাংগুয়ার হাওর সংলগ্ন ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের মসজিদের কাজ শেষে সংঘবদ্ধভাবে খোলামেলা ভাবে আহার করে এক ভদ্রলোক উনার পেইজবুকে একটি পোস্ট করেছেন এতে স্পষ্ট করোনা ভাইরাস নিয়ে এই হাওরাঞ্চলে সচেতনতার অভাব বেশিরভাগ মানুষের মাঝে। এমন জনসমাগম থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

এ নিয়ে সম্প্রতি সিলেটে অবস্থানরত হাওর পাড়েই যার জন্ম,এই অবহেলিত হাওরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তার ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেছেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন,জানতে হলে যেতে হবে সেথায়,তারা আছে যেখা‌নে। আমার প্রাণের হাওরবাসী,কেমন আছে তারা? তারা কি জানে? কি দিন অপেক্ষা করছে তাদের জন্য? না, তারা জানেনা। তারা এখনও হালকা মেজাজেই আছে। তবে, আমি কিছু অনুমান করতে পারছি, তাই বলছি, প্রথমে বলি,কিভাবে এই হাওরাঞ্চলে করোনাভাইরাস ছড়াবে তার একটি সহজ মাধ্যম হচ্ছে পরিবহন। এই হাওরাঞ্চলের একেবারে ভাটিতে বিস্তৃত এলাকার জুড়ে বর্তমান সময়ে একমাত্র পরিবহনের মাধ্যম হচ্ছে মোটরসাইকেল। যদি কোন ভাবে কোন আক্রান্ত ব্যক্তি এই মোটরসাইকে উঠেন তবেই কাম সারছে,এই মোটরসাইকেলে পরিবহন করতে বসতে হয় খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে,পেয়ে গেলো দুজনে,এবার শুরু,ড্রাইভার এখন করোনার ড্রাইভার, দিনের মধ্যেই নিজের বাড়ি সহ ছড়িয়ে দিবে আরো বিশ পঁচিশে। অন্যদিকে এই হাওরাঞ্চলে জমির অভাব না থাকলেও বাস করতে হয় খুব গাদাগাদি করে, ফলে করোনা ছড়ানোর চান্সটাও বেশী, গ্রামের কেউ আক্রান্ত হলে অন্যদের বাচার উপায় কি? বলবেন হোম কোয়ারেন্টাইন, এরা এসব বোঝেনা, এদেরকে বলতে হবে নিজ ঘরে বন্দী, হয়তোবা বিভিন্ন পথে আনাগোনায় এই কথাটি অনেক বার শুনিয়াছে বিধায় এবার না হয় বুঝল এবং ঘরে বন্দি হয়ে গেল।রক্ষা পেল করোনাভাইরাস হতে, কিন্তু পেটের ক্ষুধা নিবারণ করবে কিভাবে,এই প্রশ্নেই ঘুরপাক খাচ্ছে হাওরবাসী। এখনই সময় এই নিন্ম আয়ের অবহেলিত হাওরাঞ্চলের মানুষকে বাচাতে হলে একবার হলেও ভাবনার। এই হাওরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর না আছে ভালো থাকার ব্যবস্থা, না আছে স্যানিটেশন,না আছে বিদ্যুৎ না আছে চাল, ডালতো অনেক দূরে, আর মাছ? একেবারেই সুদূরে! আবদ্ধ থাকার ঘরটিও নিশ্চয়ই, দুতালা -তেতালা নয়। তবু এদের মনে আছ জোর, একটু সহযোগিতা পেলেই এরা, টিকে থাকবে, খাদ্যের সন্ধানে যদি এরা ঘুরে বেড়ায়, মরবে, মরবে। তাই সবার আগে এগিয়ে আসুন,এই হাওরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষকে নিয়ে একটু ভাবি। ডিজিটাল এই বাংলায় ইচ্ছে থাকলে দূর থেকেও পাশে দাঁড়ানো যায়, যাদের সামর্থ্য আছে তারা নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের কাউকে না হয় কয়েকটি জীবাণুমুক্ত সাবান, না হয় কয়টি মাস্ক, না হয় এক কেজি চাল ডাল দিয়ে সহায়তা করতে পারেন, আজ এই দুর্দিনেই হবে পরিচয়,কে আপন কে পর।