মস্তফা উদ্দিন: করোনা সংক্রমন রোদে সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারি নির্দেশনায় মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে কম। সে কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে খাদ্যসংকটে। তাই নিজ এলাকার দরিদ্র মানুষের কষ্ট দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি জুড়ি উপজেলার সোনা রুপা চা বাগানের দরিদ্র চা-বিক্রেতা তরনী রুদ্র পাল। নিজ এলাকার চা-শ্রমিক পরিবারের মাঝে দিলেন খাদ্য সহায়তা।
নিজের দরিদ্রতাকে পিছনে টেলে নিজ এলাকার হত দরিদ্র ৫০টি চা-শ্রমিক পরিবারে মাঝে শুক্রবার সকাল ১১টায় চৌমুহনী বাজারে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন তিনি। এর আগে করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে এলাকার মানুষজনকে রক্ষা করতে নিজ উদ্যেগে সচেতামূলক প্রচার পত্র বিলিও করেছেন। দরিদ্র হয়েও দরিদ্রদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তরনী রুদ্র পাল।
খাদ্য বিতরণ কালে পূর্ব জুড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য সজল কান্তি বাউরী বলেন,তরনী রুদ্র পাল বিত্তশালী নন যিনি ত্রাণ নেয়ার কথা তিনি আজ ত্রান দিচ্ছেন, ঘটনাটি ব্যতিক্রম। তিনি চা-বিক্রয় করেই সংসার চালান। অথচ তিনি নিজেই গ্রামের দরিদ্র মানুষের কথা ভেবে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। যা এলাকায় মানবতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এলাকার বিত্তশালীরা দরিদ্রের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।
সোনারুপা টি এস্ট্রেট এলাকার গ্রাম পঞ্চাইত সভাপতি কানু রুদ্র পাল বলেন, বাগান এলাকার চৌমুহনী বাজারে চা-বিক্রয় করে টানাহেচড়া করে সংসার চালাত সে।এলাকার দরিদ্র মানুষের কষ্ট দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেনি। নিজের অভাবের কথা চিন্তা না করে আজ এলাকার দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দিয়ে এলাকায় মানবতার দৃষ্টান্ত হয়ে তাকবে।
ত্রাণ বিতরণ কালিন সময়ে তরনী রুদ্র পাল কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন আমি সামর্থ্যশালী নয়, তবুও চেষ্টা করছি এলাকার দরিদ্র পরিবার গুলোর পাশে দাড়ানোর, আমার এক মাত্র একটি ছেলে তার জন্য সকলে আর্শিবাদ করবেন, সে যেন বড় হয়ে গরিব দু:খী মানুষের মূখে হাসি ফুটাতে পারে।
Sylhetnewsbd Online News Paper