সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: কতোটা আপন করে নিলে এতোটা কাছে যাওয়া যায় সহকর্মীদের? ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত ১০৮ পুলিশ সদস্যের সাথে দেখা করলেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সিলেটের কৃতি সন্তান বিপ্লব বিজয় তালুকদার।
করোণা মহামারী মোকাবেলায় ফ্রন্টলাইনার যুদ্ধা হিসেবে সরকারের সকল ঘোষণা বাস্তবায়নে রাত-দিন নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।পুলিশ করোণা মহামারী রোধে নিম্নোক্ত উপায়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে:
১. করোনার বিস্তাররোধে জনসাধারন যাতে বাসায় থাকে এবং গনজমায়েত নিরুৎসাহিত করতে দিনরাত ২৪ ঘন্টা জনসচেতনতামূলক মাইকিং করেছেন।
২. লকড ডাউনকৃত বাসা/ এলাকায় লকড ডাউন শতভাগ কার্যকর আছে কি না তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত লকড ডাউনকৃত বাসা/এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন।
৩. দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার/ দোকানে দোকানে ক্রেতাদের সাথে কথা বলেছেন। কাঁচাবাজার বা ঔষধের দোকানে গিয়ে লোকজন যাতে করোনা আক্রান্ত না হয় সেজন্য সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থেকেছেন। লোকজনকে বুঝিয়েছেন দোকানের সামনে নির্ধারিত চিহৃিত স্থানে দাঁড়াতে।
৪. কাঁচাবাজারে আগত লোকজনকে করোনামুক্ত রাখতে বাজারে একমুখী পথ চালু করেছেন যাতে বাজারে আগত একজনকে অন্যজনের মুখোমুখি না হতে হয়।
৫. বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড় কমাতে নির্দিষ্ট শ্রেনীর কিছু দোকান সরিয়ে বাজারের পাশের মাঠ বা ফাঁকা স্থানে বসিয়েছেন যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিত্য পণ্য কিনতে পারেন ক্রেতারা।
৬. অকারণে বাসার বাইরে আসা নিরুৎসাহিত করে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে প্রয়োজনভেদে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট ডিউটি করেছেন।
৭. রাস্তায় পড়ে থাকা অসুস্থ/ মৃত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন।
৮. যে অসুস্থ/ মৃত ব্যক্তিকে আত্নীয়-স্বজন ফেলে গিয়েছে, তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন/ সৎকারের ব্যবস্থা করেছেন।
৯. অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে অপারগ আত্নীয়-স্বজন ফোন করামাত্রই ছুটে গিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন। অনুরোধ করেছেন অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষে।
১০. মৃত ব্যক্তির আপন সন্তান, ভাই, বাবা পর্যন্ত যখন সৎকারে অনীহা প্রকাশ করেছে; তখন নিজেরাই কবর খুঁড়ে জানাযা পড়িয়েছেন, মুখাগ্নি করেছেন।
১১. খাবার দিয়েছেন ছিন্নমূল, অসহায় ও দুঃস্থ লোকজনকে।
১২. কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কতৃক ত্রান বিতরণ কার্যক্রম যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য যেচে গিয়ে কাজ করেছেন।
১৩. সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে অভাবগ্রস্ত যে শ্রেনীটি কারো কাছে হাত পাতেনি, তাদেরকে চিহৃিত করে গভীর রাতে/ গোপনে বাসায় ‘ফুড প্যাক’ পৌছে দিয়েছেন।
১৪. ত্রাণ চোর ধরেছেন।
১৫. জীবানুনাশক ছিটিয়েছেন রাস্তায় রাস্তায়।
আর এসব করেছেন নিয়মিত আইন-শৃংখলা ডিউটির পাশে।
করোণা মহামারীর এই দু:সময়ে সিলেট নিউজ বিডির সাথে আলাপকালে সিলেটের সন্তান ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘যতক্ষণ জীবন আছে পুলিশ আছে আপনার পাশে। ‘৭১ এ যেমন জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তেমনই জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে করোনা প্রতিরোধে আমরা এই প্রজন্মের পুলিশ আছি আপনার পাশে’।
Sylhetnewsbd Online News Paper