বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে মিথ্যা ভিডিও প্রচারঃ

ঘটনাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল নিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ফেইসবুক লাইভে মিথ্যা ও বানোয়াট ভিডিও প্রচারের প্রতিবাদে শনিবার(১২ ডিসেম্বর) সকালে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা আন্দোলনের ডাক দেন।

বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শামীম আল ইমরান ঘটনাকারীর বিরুদ্ধে আগামী ২ দিনের মধ্যে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলন-কর্মসুচি স্থগিত করা হয়। পরে হাসপাতাল সভাকক্ষে প্রশাসন ও জনপ্রতনিধির সাথে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জনৈক নাজমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন নারী রোগীকে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাৎক্ষণিক ওই রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন ও কাউন্সিলিং করেন। এরপরও নাজমুল ইসলাম ফেইসবুক লাইভে নারী চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে অশালীন আচরণসহ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে তা বিভিন্ন পোর্টালে ভাইরাল হয়। মিথ্যা অভিযোগের ভিডিও ভাইরালে দেশে-বিদেশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথা স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল, চিকিৎসক ও নার্সদের সুনাম ক্ষুন্ন করার প্রতিবাদে সংশ্লিষ্টরা কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসুচির ডাক দেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক-নার্সদের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ও ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান আগামী ২ দিনের মধ্যে ঘটনাকারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলন-কর্মসুচি স্থগিত করা হয়।

এসময় থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস, আরএমও ডা. শারমিন আক্তার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস জানান, জনৈক নাজমুল ইসলাম ফেইসবুক লাইভে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা ভিডিও ভাইরাল করেন। এতে হাসপাতাল ও চিকিৎসক-নার্সদের মারাত্মক সম্মানহানী হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ায় ন্যায় বিচারের দাবীতে তারা আন্দোলনের ডাক দেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও আগামী ২ দিনের মধ্যে ঘটনাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।