সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ সভ্যতার আলো পৃথিবীর অনেক জায়গায় এখনো পৌঁছায়নি। এর প্রমাণ মেলে নানান দেশের আদিবাসীদের জীবন-যাপনে। তাদের আচার আচরণ দেখলে রীতিমতো তাজ্জব বনে যাবেন আপনিও। ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী রয়েছে। যাদের ভাষা, সংস্কৃতি কোনো কিছুর সঙ্গেই মিল নেই ভারতের। এ যেন আলোর নিচে আঁধার।
আধুনিকতার প্রতিযোগিতায় বিশ্বের প্রায় সবদেশই মোটামুটি তাল মিলিয়ে চলছে। তবে এই পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীগুলোকে স্রোতের অনুকূলে আনা কষ্টকর বটে! তাদের প্রত্যেকেরই বিভিন্ন ধরনের আদব কায়দা আছে। অনেকেরই জীবন-যাপনের পদ্ধতি দেখে আমরা তথাকথিত সভ্য জগতের মানুষেরা বিস্মিত হয়ে যাই। আমাদের কাছে যা অস্বাভাবিক সেগুলোই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটা করে পালন হয়। তেমনি আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ সুদান দেশটির এক বৃহৎ আদিবাসী সম্প্রদায়। এই দেশের বেশিরভাগ মানুষই এই উপজাতির অংশ।
যারা তাদের নিজস্ব রীতি বজায় রাখার জন্য পশুচারণ ছাড়া আর কোনো কাজ করে না। কেবলমাত্র শস্য হিসেবে পুরনো পদ্ধতির মাধ্যমে ভুট্টা চাষ করে থাকে এরা। এই আদিবাসী গোষ্ঠীর নাম হল ‘ডিংকা’। যদিও বহির্বিশ্ব এদের ডিংকা নামে ডাকলেও এরা নিজেদেরকে অন্য নামে ডেকে থাকে। একজন ডিংকাকে বলা হয় মুয়োজ্যাং এবং একের অধিক ডিংকা-কে তারা নিজেরাই জিয়েং নামে ডাকে।
নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী ডিংকারা সাধারণত জীবনভর পশুচারণ করে বেড়ায়। মূলত গো পালন তাদের সমাজের নারী-পুরুষ উভয়েই মূল পেশা হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এখানে কোনো উন্নত অর্থব্যবস্থা সে ভাবে প্রচলিত নেই।এরা শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাসগৃহ ছেড়ে পশুদের পর্যাপ্ত খাদ্যের সন্ধানে প্রতিবছর নীলনদের তীরবর্তী অংশে গিয়ে হাজির হয়। আবার বর্ষাকালে পার্বত্য জায়গায় অবস্থিত তাদের স্থায়ী বাসগৃহে ফিরে আসে।
অদ্ভুতভাবে ডিংকা শিশু থেকে শুরু করে পূর্ণবয়স্করা পর্যন্ত গরুর বাঁট থেকে সরাসরি দুধ পান করে। এই অঞ্চলে গরুর গোবর পোড়ানো একটি অতি প্রচলিত ঘটনা। এমনকি এখানকার মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে চিরাচরিত পদ্ধতিতে ডিংকারা গোবর পোড়া ছাই সারা গায়ে মেখে থাকে। তাদের ধারণা এর ফলে মশা কামড়াবে না। এমনকি গরুর মূত্র দিয়ে মাথা ধোয়াকে তারা অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করে।
Sylhetnewsbd Online News Paper