↔
মস্তফা উদ্দিন,বড়লেখা:মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মসজিদের নামকরণ নিয়ে বিরোধের জেরে গত (২৪ জুলাই) শনিবার আছরের নামাজের পর দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা দিয়েছে।
উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের সুজানগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়া তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় রোববার বড়লেখা থানায় সাজ্জাদ হোসেন পক্ষের মক্তদির আলী বাদী হয়ে অপরপক্ষের ফয়ছল বক্সকে প্রধান আসামি করে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। অন্যদিকে আনছারুল হক পক্ষের মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সাজ্জাদ হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে পৃথক আরেকটি মামলা করেন।
ঘটনায় আহতরা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন, আজাদ হোসেন, আবিদ আহমদ, এমাদ হোসেন, আলিম উদ্দিন, মওরুন বেগম, শিপা বেগম, জাবের আহমদ, বকুল বক্স, সুকরাম বিন আলা বক্স, মহসিন আলী, আজিজুর রহমান প্রমুখ।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের সুজানগর গ্রামের একটি মসজিদের নামকরণ নিয়ে এলাকার সাজ্জাদ হোসেন ও আনছারুল হক পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। একপক্ষ চাইছে গ্রামের জামে মসজিদের নাম হবে ‘সুজানগর জামে মসজিদ’ আর অপরপক্ষ চাইছে নাম হবে ‘বক্সবাড়ি জামে মসজিদ’। নামকরণের বিষয়টি নিয়ে গত বছরের আগস্ট মাসে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে স্থানীয়রা মসজিদের নামকরণের রেকর্ড (দলিল ও ফর্চা) দেখে ‘সুজানগর জামে মসজিদ’ নাম রাখার সিদ্ধান্ত দেন এবং উভয়পক্ষকে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো প্রকার বিরোধে না জড়াতে বলেন। কিন্তু এরপরও শনিবার আছরের নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে বড়লেখা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন।
এদিকে অভিযোগ করা হয়েছে, শনিবার বিকেলে আজিমগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি যাবার পথে সাজ্জাদ হোসেন পক্ষের আবিদ আহমদ ও আলিম উদ্দিনের ওপর আনছারুল হকের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। এরপর দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অন্যদিকে আনছারুল হকের পক্ষের অভিযোগ মসজিদ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে লোকজন তাদের ওপর হামলা করেছে।
বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক অমিত আচার্য্য জানান, সংঘর্ষে আহত ১২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সন্ধ্যার পর তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ৩-৪ জন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার রোববার দুপুরে বলেন, ‘মসজিদের নামকরণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper