মস্তফা উদ্দিন,বড়লেখা প্রতিনিধি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির বঙ্গবন্ধুর আহবানে যেদিন রাজারবাগ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অংশগ্রহণ। ঘন্টার পর ঘন্টা মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদানের কথা বললে শেষ হবে না। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়েছি সেখানে পুলিশ বাহিনীর দুই একজন সাথে থাকতেন। থানা থেকেই আমরা অস্ত্র পেয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সময়। কাজেই পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রয়ে গেছে। ৭৫ সালে রাজারবাগে ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আহবান করেছিলেন, তোমরা জনগনের পুলিশ, তোমরা মানবতার পুলিশ। তোমাদেরকে নিয়ে যেন গর্ব করতে পারি। আজ কিন্তু আমাদের পুলিশ সেই জায়গাটাতে আসছে।
শনিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী থানা প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। মন্ত্রী সেখানে জুড়ী থানার নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন এবং ‘একটি আধুনিক থানার জন্মকথা’ শীর্ষক স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ভবন নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ থেকে বারো বছর আগের যে পুলিশ আর বর্তমান পুলিশ এক নয়। কারণ বঙ্গবন্ধুর কন্যা এখন নেতৃত্বে। তিনি জনগনের পুলিশ হওয়ার জন্যই এই পুলিশকে তৈরি করেছেন। আজকে জনগনের যা প্রয়োজন পুলিশ সর্বাগ্রে সেখানে উপস্থিত। জঙ্গী দমন বলেন, বন দস্যু বলেন, সন্ত্রাস দমন বলেন, সব জায়গায়ই পুলিশ আজকে তাদের দক্ষতার সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ শুধু চ্যালেঞ্চ মোকাবেলা করছেন না। মানবিক কাজ করছেন। তারা কোভিডের সময় এর সাক্ষর রেখেছে। যখন সন্তান তার মাকে হাসপাতালে ফেলে এসেছে। লাশের কাছে যায়নি। পুলিশই তখন প্রথম এগিয়ে এসে দাফন কাফন করেছে। কোভিডের সময় পুলিশ নিজের জীবন বিপন্ন করে মানবতার সেবার দাঁড়িয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে আমরা কোভিড মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। যখন সারা বিশ্ব অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ কিন্তু পথ হারায়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পথ হারাইনি বলে এই মহামারি আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছি। ফলে কৃষি শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
মাদকের ছোবল থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সাথে আমাদের সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে। তবেই যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের কাঙ্খিত উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন ভালো হচ্ছে। তাই দেশের অগ্রযাত্রা কোনো অপশক্তি রুখতে পারবে না।’ আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদে উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের যড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।’ প্রবাসে অবস্থানকারীদের পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ার কথা উল্লেখ করে সমস্যা নিরসনের জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুদর্শন কুমার রায়ের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি, নেছার আহমদ এমপি, সংরক্ষতি নারী আসনের (মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ) সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এমপি, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান, জুড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ।
মন্ত্রীদ্বয় জুড়ী থানা প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর ফলক উন্মোচন করে নবনির্মিত থানার ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে সেখানে গোলাপ ও কামিনীবৃক্ষের চারা রোপণ করেন। এরপর স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও আওয়ামী লীগ নেতারা দুই মন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুয়েব আহমদ, জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র সিপার উদ্দিন আহমদ, বড়লেখা পৌর সভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদ, বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন সহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
Sylhetnewsbd Online News Paper