কয়েক বছর পূর্বে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। নামমাত্র স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো কেন্দ্র থেকে।চিকিৎসা নিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন অনেকেই। অন্য রোগীদের মতো প্রসূতিরাও সব সময় ছুটে যেতেন শহরের দিকে। কিন্তু বদলে গেছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম। প্রসূতি সেবাদানে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আজ অনন্য এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
আলোচিত এই সেবা প্রতিষ্ঠানটি হলো ওসমানীনগর উপজেলা উমপুর সিকন্দর পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র। যেটি এখন শুধুই স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, প্রসূতিদের কাছে নিরাপদ সন্তান প্রসবের এক আপন ঠিকানা। অল্প দিনে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে ইউনিয়ন সহ ওসমানীনগর উপজেলা । এখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি মায়েরা আসেন নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিনা খরচে সন্তান প্রসব শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান তাঁরা। ডপলার মেশিন, ও বেড এর জন্য দারিয়ে থাকতে হয় প্রসূতি মায়েদের। একটি ডপলার মেশিন, ও কয়েকটি বেড এর প্রয়োজন।
তাই এখন শুধু উমরপুর ইউনিয়নের প্রসূতিরাই নন, আশপাশের ইউনিয়ন এবং উপজেলার প্রসূতিরাও আসেন এখানে সেবা নিতে। এক মাসে শিশুর জন্মগ্রহণের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।
হঠাৎ কীভাবে কার উদ্যোগে বদলে গেল স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চিত্র। সেই মানুষটি হলেন স্থানীয় উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদেরই (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া পরিবারকল্যান পরিদর্শিকা (এফ ডাবলিও বি সম্পা রানি গুষ ।
বদলে যাওয়ার কথা: চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া জানালেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে ওই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি অবস্থা নাজুক অবস্থায় দেখতে পাই । স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থা নাজুক দেখে আমি সংস্কারে কাজের জন্য দরজা জানালা,চেয়ার টেবিল ও টাইলসের কাজ সহ, আরো কিছু জন্ত্র পাতি কিনে দেই, বর্থমানে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থা খুবই ভালো কিন্তু একজন পরিবারকল্যান পরিদর্শিকা (এফ ডবলিও বি সম্পা রানি গুষ এর মাধ্যমে চলছে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি,কিন্ত একজন ডাক্তার তার আয়া প্রয়োজন,বেসরকারিভাবে কেউ এগিয়ে এলে একটি ডাপলার মেশিন তিন চারটি বেড এর প্রয়োজন। গোলাম কিবরিয়া চেয়ারম্যান যানান ভিবিন্ন কর্মশালায় মা ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশেষ করে নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে যেসব আলোচনা হয়, তাতে তিনি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন। সিদ্ধান্ত নেন নিজের ইউনিয়নে অবহেলায় পড়ে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার। তিনি জানান, কর্মশালা ঘিরে পরিষদের সদস্যদের এক বৈঠকে তিনি তাঁর আগ্রহের কথা তুলে ধরলে তাঁরাও উৎসাহী হন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগীতা ও বেসরকারি ভাবে সহযোগিতা চান তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকতেই চোখে পড়ে আশপাশের পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ। ভেতরে ঢোকার পর দেখা যায়, সামনে খোলামেলা কক্ষে বসা ১৩-১৪ জন নারী। কারও কারও সঙ্গে আছেন পুরুষও। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেরই কোলে বিভিন্ন বয়সের শিশু। কারও কোলে নবজাতক। এরই মধ্যে ভেতরের একটি কক্ষ থেকে ভেসে আসে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ। কয়েক মিনিট পর কর্তব্যরত সেবিকা হাসতে হাসতে এগিয়ে আসেন নতুন তোয়ালে মোড়ানো ওই নবজাতককে কোলে নিয়ে। বলেন, কেবলই দুনিয়ার আলোর মুখ দেখেছে এই নবজাতক।
কেমন লাগছে জানতে চাইলে রোখসান বলেন, ‘অনেক ভালো। মায়ের গর্ভ থেকে সন্তান সুস্থভাবে দুনিয়ায় এলে মা যেমন সব কষ্ট ভুলে যান, তেমনি আমাদের কাছেও খুব ভালো লাগে।’
সেবা গ্রহণকারীদের বক্তব্য: ইউনিয়নের ফাতেমা বলেন, তাঁর ছোট বোন আশেয়া গর্ভবতী ছিলেন। তাঁর স্বামীর বাড়ি তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে নিলে একজন নারী চিকিৎসক বলেন, ‘গর্ভের বাচ্চা উপরে উঠে গেছে, দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে।’
তাঁরা দুশ্চিন্তা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরদিন লোকমুখে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কথা শুনে এখানে আসেন। এখানে বিনা অস্ত্রোপচারে তাঁর বোনের একটি কন্যাসন্তান প্রসব হয়।
Sylhetnewsbd Online News Paper