সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর ফসলী জমি দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মানের অভিযোগ উঠেছে সদ্য পরাজিত এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে সরকারী কাবিকা প্রকল্পের দোহাই দিয়ে এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন প্রবাসীর স্বজনরা।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামের নূর মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করায় দেশে থাকা তার সম্পত্তি দেখবাল করে আসছেন তার ভাতিজা উপজেলার ব্রাম্মন গ্রামের মৃত মজনুর রহমানের পুত্র ইয়াওর আলী। এম. জি খালেক আহমদ চেয়ারম্যান থাকা কালে গ্রামীণ অবকাটামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পের চলমান কার্যক্রমে প্রবাসীর ভূমি দখলের পায়তারা করছেন ।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মার্চ ইউনিয়নের সিরাজ নগর গ্রামে রাস্তা সংস্কারের কথা কাবিকা প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনোয়ারা বেগমের মালিকানাধীন প্রায় ৩০ শতাংশ ফসলী ধানী জমির কাচা ধান কেটে এস্কোভেটার মেশিন দিয়ে জোরপূর্বক মাঠি ভরটের কাজ শুরু করেন সাবেক ওই চেয়ারম্যান।
ফসলী জমি ধংস করার খবর পেয়ে প্রবাসীর কেয়ারটেকার ইয়াওর আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফসলী জমি নষ্ট করার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরকারি প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে বলে ইয়াওর আলীকে জানান সাবেক চেয়ারম্যান এম. জি খালেক আহমদ।
ঘটনাটি তাৎক্ষনিক মৌখিকভাবে বুরুঙ্গা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের জানিয়ে কোন সুফল না পাওয়ায় এ বিষয়ে ১৩ এপ্রিল ওসমানীনগর থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে জানতে বুরুঙ্গা ইউপির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এম. জি খালেক আহমদ ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বিকার করে বলেন, এখানে তথ্যগত ভূল রয়েছে। আমি পরবর্তীতে ফোন দিয়ে কথা বলব বলে ফোন রেখে দেন।
বুরুঙ্গা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন, এসব প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রবাসীর স্বজনরা মৌখিকভাবে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এটা আমি দ্বায়িত্ব গ্রহণের আগের প্রকল্প হওয়ায় আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছি না। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় বলেন, ওই রাস্তার নির্মাণ নিয়ে প্রবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকল্পের বরাদ্ধকৃত অর্থ প্রকল্প কমিটিকে প্রদান করা হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে সার্বিক বিষয়ে খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মাইন উদ্দিন বলেন, ফসলী জমিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক মাঠি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু সরকারি বরাদ্ধের বিষয় জড়িত তাই ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলীমা রায়হানা বলেন, ব্যক্তি মালিকানধীন ফসলী জমিতে সরাকরিভাবে মাঠি ভরাটের কাজ হয়েছে এমন একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper