বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরনোত্তর স্বাধীণতা পদক প্রত্যাহারকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসুত’ আখ্যা দিয়ে দলটি বলছে, ‘এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরো সংকটময় ও জটিল করে তুলবে।’
বৃহস্পতিবার(০৮সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদক প্রত্যাহার নিয়ে কথা বলেন।
পদক প্রত্যাহার দেশের রাজনীতিতে ‘খারাপ নজির সৃষ্টি করা হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি এর তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে পদক যথাস্থানে স্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বুধবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক জাতীয় জাদুঘর থেকে সরিয়ে নিয়েছ জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিভা কমিটি।
২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটসরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।
পদক প্রত্যাহারের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সিদ্ধান্তে শুধু জিয়াউর রহমানকে হেয় করা হচ্ছে না, স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা অসাধারণ অবদান রেখেছেন, তাদের সকলের জন্য এটি চরম অবমাননাকর।
“সরকার এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রমান করলো যে, সত্যিকার মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিলোনা। এই ধরনের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত দেশকে আরো বিভক্ত করবে। এই সিদ্ধান্ত শুধু সংকীর্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত নয়, এটা প্রতিহিংসা পরায়ন, গণবিচ্ছিন্ন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এটি স্বাধীণতা পরবর্তী সময়ে পদকপ্রাপ্ত বরেন্য ব্যক্তিবর্গদের অবমাননা করার শামিল।”
স্বাধীণতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক যারা কেড়ে নিচ্ছে, তারা স্বাধীনতাকে অস্বীকার করছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তখন থেকেই জিয়া কিংবদন্তি একটি নাম।
তিনি বলেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হকের একটি রায়ের অবজারভেশন হতে সমগ্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক চিত্র বদলে দিচ্ছে আওয়ামী লীগের এই অনৈতিক সরকার। শহীদ জিয়া সামরিক অভ্যূত্থান ঘটাননি। ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যূত্থান ঘটিয়েছিলো আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক।’
“স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করে শুধুমাত্র আদালতের রায়ের বিকৃত ব্যাখ্যা করে তার পদক সরিয়ে ফেলে, মাজার সরিয়ে ফেলতে চায়; তারাই স্বাধীনতা বিরোধী। আদালতের রায়েল অপব্যাখ্যা দিয়ে ইতিহাস নির্ধারন করা যায়না। সত্যেল ওপর ভিত্তি করেই কালজয়ী ইতিহাস রচিত হয়”, বলেন বিএনপি মহাসচিব।
আওয়ামী লীগ সরকার ইতিহাস বিকৃত করছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অনৈতিক সরকার শুধু ইতিহাস বিকৃতই করছেনা, তাদের নিজেদের স্বার্থে দেশের সকল স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে স্বেচ্ছাচারিতার চরম নজির স্থাপন করে ভিন্ন রঙ্গে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিচ্ছে জনগণের ওপর। বহুমত, বহুপথ ও মুক্ত চিন্তাকে কবর দিয়ে ফ্যাসিবাদী এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুর কবির খোকন, সাংগঠনিক স্মপাদক এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper