মৌলভীবাজারে গ্যাস-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সিএনজি স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। এতে প্রায় সাত হাজার গ্রাহক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গ্রাহকেরা অভিযোগ করেছেন, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের সংকট বেড়ে গেছে। সকাল থেকেই গ্রাহকদের দুর্ভোগ শুরু হচ্ছে। অনেক এলাকায় সকাল আট-নয়টা থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিকেল চারটা-পাঁচটা পর্যন্ত এই অচলাবস্থা বিরাজ করে। এরপর গ্যাস এলেও রাত সাতটা-আটটা পর্যন্ত তা নিবু নিবু অবস্থায় জ্বলে। তাতে রান্নাসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা যায় না। তবে রাত আটটা-সাড়ে আটটার পর থেকে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে থাকে।
মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর সড়কের বাসিন্দা এ এস কাঁকন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় তিন দিন ধরে গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আমার বাসায় সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত একদম গ্যাস থাকে না। বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নিবু নিবু অবস্থায় জ্বলে। আমরা খুব সমস্যায় আছি।’
এই অবস্থা শহরের শাহ মোস্তফা সড়ক, কলিমাবাদ, সৈয়ারপুর, আরামবাগ, পশ্চিমবাজার, কাশীনাথ রোড, মিশন এলাকা, শমশেরনগর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায়। সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কখন গ্যাস থাকবে, কখন থাকবে না, তা নিয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিকেরাও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।
মৌলভীবাজারে গ্যাসের আবাসিক গ্রাহক হচ্ছেন ৬ হাজার ৭৭৮ জন। বাণিজ্যিক গ্রাহক আছেন ৮১ জন। সিএনজি স্টেশন আছে পাঁচটি এবং পাঁচটি চা-বাগানে গ্যাস সরবরাহ আছে। মৌলভীবাজারে গ্যাসের চাহিদা হচ্ছে প্রায় তিন হাজার ঘনমিটার। তবে রাত ও দিনে এই চাহিদা ওঠানামা করে।
জালালাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে হবিগঞ্জ, শাহজীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন চা-বাগান, সিএনজি স্টেশন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মৌলভীবাজার শহর পড়েছে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ গ্যাস পাইপ লাইনের একেবারে শেষ প্রান্তে। এতে মৌলভীবাজার পর্যন্ত এসে গ্যাস পৌঁছানোর আগেই চাপ কমে যায়।
মৌলভীবাজারে শেষ প্রান্তের গ্রাহকেরা প্রয়োজনের সময় গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ পাচ্ছেন না। আগে শুধু শীতকালে কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক সংকট দেখা দিত। এতে ব্যাপক গ্রাহক তেমন একটা সংকট বুঝতে পারতেন না। এবার মে মাস থেকেই গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে। এই সংকটের বিষয়টি জালালাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু সংকট নিরসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মেসার্স সাজ্জাদুর রহমান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে মারাত্মক সংকট চলছে। আমরা কোনো কোনো সময় একদমই গ্যাস পাচ্ছি না। সব সময় উৎকণ্ঠায় থাকি কখন বন্ধ হয়ে যায়। আজও (গতকাল বৃহস্পতিবার) পৌনে একটা থেকে গ্যাস নেই। গত বুধবার বেলা ১১টা থেকে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয় রাত একটায়। তার আগের দিন বেলা একটার দিকে গ্যাস বন্ধ হয়। পাওয়া যায় রাত ১২টার দিকে।’
জালালাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সঞ্জিত ভূষণ দেব গ্যাস-সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উৎপাদন কম। তাই সরবরাহও কমে গেছে। আমরা খুব পেরেশানিতে আছি। সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। কতটুকু কী হবে, বুঝতে পারছি না।’
Sylhetnewsbd Online News Paper