ছাতকের একতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪দিন ধরে পাঠদান বন্ধ

সিলেট নিউজ বিডি ডেক্স: ছাতকে জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে নেয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরতে বিলম্বের বিষয় নিয়ে শিক্ষক-ছাত্রের কথা কাটাকাটির ঘটনা নিয়ে বিদ্যালয়ে অনির্দ্দিষ্টকালের জন্যে পাঠদান বন্ধ রেখেছেন শিক্ষকরা। ফলে গত ৪দিন থেকে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ২০১৬সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত আড়াই শ’টাকা ফি’র বদলে সিংচাপইড় একতা উচ্চ বিদ্যালয়ে রশীদের মাধ্যমে জনপ্রতি ৬শ’ ৮০টাকা হারে আদায় করছেন। এভাবে সরকারি ফি’র নামে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে ২আগষ্ট সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সিংচাপইড় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মৌলুদুর রহমান তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হেনাকে অতিরিক্ত টাকা ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু একমাস পরও টাকা ফেরত না দেয়ায় গত ৭সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এসে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরতের জন্যে অনশন শুরু করে। এসময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এনিয়ে শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্যে বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখেছেন।

অভিবাবকরা জানান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হেনা শুধু জেএসসি ফরম পূরণেই অতিরিক্ত টাকা নেয়নি, সে সভাপতির সাথে আতাঁত করে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন রকমের অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তুচ্ছ ঘটনায় পাঠদান বন্ধ রাখায় অভিভাবকও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাইস্কুল, কলেজও মাদরাসায় জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ চাপের মূখে পড়ে অরিরিক্ত টাকাগুলো ফেরত দিয়েছে। তবে একতা হাইস্কুলে নেয়া অতিরিক্ত টাকাগুলো বেহায়ার মতো ফেরত দিচ্ছে না শিক্ষক নামধারী পেশাদার দূর্নীতিবাজ আবু হেনা।

সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিজাম উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত টাকাগুলো ফেরত দেয়ার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো টাকা ফেরত না দেয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে শিক্ষকরা টাকা ফেরত না দিয়ে কেন পাঠদান বন্ধ রেখেছে এব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোরশেদ আহমদ চৌধুরী জানান, এ বিষয়টি ২৬সেপ্টেম্বর বৈঠকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। তবে এখন বিদ্যালয়ে পাঠদান হচ্ছে কিনা তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা স্মৃতি রানী দাসের মোবাইল তার স্বামী রিসিভ করে বলেন, সে বাথরুমে রয়েছে। তবে এরপর তিনি মোবাইলািট বন্ধ করে দেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শিক্ষা অফিসার বদলী হয়েছেন। তবে সিংচাপইড় একতা হাইস্কুলে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।