নোয়াখালির কৃতি সন্তান ওবায়দুল কাদের

সিলেট নিউজ বিডি: আগামী তিন বছরের জন্য প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। রোববার(২৩অক্টোবর) দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে তাকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়। ওবায়দুল কাদের বর্তমান সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ।

`আমি হিমালয় দেখিনি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখেছি শেখ মুজিব ছিলেন হিমালয়ের মতো বিশাল’ ছাত্রলীগকে উপদেশ দিয়ে এমন করেই কথাগুলো বলতেন কাদের। বলতেন, পোষ্টারে তোমার আমার ছবি না দিয়ে এক নেতা, এক নেত্রীর ছবি দাও। শুধু উপদেশই নয়, কাজেও বাস্তবায়ন দেখিয়ে অসংখ্য জয়ের পর এবার বাংলাদেশের বৃহৎ সংগঠন আওয়ামী লীগের পরিচালনার হাল ধরেছেন নোয়াখালির কৃতি সন্তান ওবায়দুল কাদের।

আমাদের সবারই জানা, শিশু শতাব্দী যখন বাসের জন্য দৌড়ে এসে বলেছিলো, এই মিনিস্টার আমি বাসায় যেতে বাস পাই না, এরপর সেই শিশুর জন্য অনায়সে মিলে বাস, পরের দিন সেই বাস অপেক্ষায়ও থাকতেও দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাসে ঝুলেছেন তিনি। চায়ের দোকানে গ্রামের কৃষকের সঙ্গে এক সঙ্গে বসে চা খাওয়া ছিলো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। হাঁটু পরিমাণ কাঁদায় হেঁটে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুভব করতেন তিনি। অনিয়মের কোন দৃশ্যপটের চিত্র জানা থাকলে নিজেই ছুটে যেতেন। তিনি সদ্য নির্বাচিত দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
kader_7393
গত বেশ কিছুদিন ধরেই গ্রামের চাষা থেকে চায়ের দোকান কিংবা রাজনৈতিক পাড়ায় এই নেতার মাথায় যে বিজয় মুকুট আসছে, তা রটেছিলো খুব ভালো ভাবেই। অবশেষে তাই হলো।

এর আগ থেকেই দলে সক্রিয় বিবেচনায় ওবায়দুল কাদেরকে এই পদে পছন্দ করা হয়েছে। সৈয়দ আশরাফ দলের ভেতরে জনপ্রিয় এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী হলেও নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না বলে অভিযোগ ছিল। তাছাড়া তরুণ নেতাদেরও পছন্দ ছিলো ওবায়দুল কাদেরকেই। গত রাতে গণভবনের বৈঠকে নতুন কমিটিতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকেও সম্মানজনক পদ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। নতুন কমিটিতে কে কে থাকবেন- এ বিষয়েও আশরাফের মত নেয়া হয়। তখন সৈয়দ আশরাফ প্রস্তাব করেন কাদেরের নাম।

ফিরে দেখা ওবায়দুল কাদের: ১৯৫২-এর ১ জানুয়ারি, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্ম নেন ওবায়দুল কাদের। বাবা মোশারফ হোসেন সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন। ওবায়দুল কাদের বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন।এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

কাদের কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন। ১৯৭৫ এর পর এক নাগারে দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
1280x720-2zd
ওবায়দুল কাদের বিগত ১২ জুন ’৯৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৩ জুন ’৯৬ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিনে যুব ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।২০০২ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন থেকে ২০০৯-এর সম্মেলন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৯ মার্চ জরুরি বিধিতে গ্রেফতার হয়ে ১৭ মাস ২৬ দিন কারাগারে ছিলেন। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। কারাগারে থাকাকালে কারাজীবনের বর্ণনা দিয়ে “অনুস্মৃতি : যে কথা বলা হয়নি” লেখেন তিনি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুনরায় দ্বিতীয়বারের মত নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর বঙ্গভবনে মহাজোট সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। কিছুদিনের জন্য রেলমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।বর্তমানে কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।