বড়লেখায় তলিয়ে গেছে বোরো ধানের বীজতলা, কৃষকদের হাহাকার

মস্তফা উদ্দিন,সিলেট নিউজ বিডি: বড়লেখা উপজেলায় কৃষকদের হাহাকার যেন থামছে না। বন্যা, ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে বিগত ২ বছর কৃষকরা একমুঠো বোরো ধান ঘরে তুলতে পারেনি।
হাকালুকি হাওরপারের কৃষকের টানা ২ বছর ফসল হারিয়ে নিঃস্ব। কৃষকেরা বুক ভরা আশা নিয়ে এবার অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকেই বোরো ধানের বীজ বপন শুরু করেন। বিজতলায় অঙ্কুর গজাতেই পোকার আক্রমণে পড়ে অনেক বিজতলা।
পোকার আক্রমণে প্রথম ধাক্কা সামাল দিতে যখন হিমশিম খাচ্ছেন তখনই দেখা দেয় আরেক দুর্যোগ অব্যাহত হালকা ও ভারি বর্ষণ।

বিগত ৩ দিনের বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে বোরো ধানের অনেক বীজতলা। অনেকটি বীজতলায় গজিয়েছিল চারা বেশিরভাগ চারা নষ্ট হয়ে গেছে হাকালুকি হাওর সহ উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমিতে চারার অভাবে বোরো ধানের আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

বড়লেখা উপজেলা কৃষি অফিসার কুতুব উদ্দিন সাথে যোগযোগ করলে তিনি বলেন, হাকালুকি হাওরপারের বড়লেখা উপজেলার অংশ ও ভিবিন্ন এলাকা সহ প্রায় ৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে লক্ষ্যে ২৭০ হেক্টর জমিতে ধানের বীজ বপন করা হয়। প্রায় ৫ হাজার কৃষককে সরকারিভাবে বীজ, সার ও অর্থ সহায়তা দেয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দাসের বাজার ইউনিয়ন, বর্নী ইউনিয়ন ও তালিমপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ বীজতলা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে।

কৃষকরা জানান, বিআর ২৮ ও গাজী ১৪ জাতের বীজ বপন করেছিলেন। পৌষের শুরুতেই চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তারা গত ৩-৪ দিনের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া চারা পুরুটাই নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন।

কৃষকদের সাথে আলাপ কালে বলেন, পৌষ মাসে এমন (মেঘ দিতে দেখিনি) বৃষ্টি হতে দেখিনি, বড়জোর একদিন বা দুই দিন হালকা বৃষ্টিপাত হয়। এবার মনে হয় বোরো ক্ষেত আর হবে না। বন্যার পানি নামার একমাস হয়নি, মাটিতে এখনও বিগত বন্যার পানি আটকে আছে। এরই মধ্যে আবার বৃষ্টিপাত। ফলে সামান্য বৃষ্টিপাতেই নদী-নালা ভরে ঢলের পানি নামছে হাওরে।

কৃষকরা আরও জানান, অগ্রহায়ণে যে ফসল উঠাতাম বিগত বন্যার জন্য তাও এবার নেই। গত বছর চৈত্র মাসের অকাল বন্যায় হাওরের শতভাগ বোরো ধান হারায় হাওর তীরের মানুষ। এবার বীজতলায় হানা দিচ্ছে পাহাড়ি ঢল ও পোকার আক্রমন। তাই উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় আছি।