সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজারে বিদ্যালয়ের দেয়াল থেকে মুছে ফেলা হয়েছে সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি। উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের গজারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল থেকে গত ৬ ডিসেম্বর সাদা রং দিয়ে মুছে ফেলা হয় সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি।
জানা যায়, সম্প্রতি গজারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বাইরে নামসহ আঁকা হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি। অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রতিকৃতি আঁকার এক সপ্তাহ অতিবাহিত না হতেই একটি চক্রের চাপে তা মুছে ফেলতে বাধ্য হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
গজারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করুণাময় নাথ জানান, চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরুতে সাত বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, মতিউর রহমান, রুহুল আমীন, মুন্সী আবদুর রউফ, নূর মোহাম্মদ শেখ, মোস্তফা কামাল ও মো. হামিদুর রহমানের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। প্রতিকৃতিগুলো দেয়ালে আঁকার পর সাধারণ শিক্ষার্থী এবং এলাকার প্রগতিশীল মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে। কিন্তু এসব প্রতিকৃতি আঁকার এক সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই এলাকার লোকেরা মুছে ফেলার জন্য চাপ দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মুছে ফেলা হয়।
তিনি জানান, দেয়ালে আঁকা এসব প্রতিকৃতির কারণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘জানাজার নামাজ’ হবে না- এমন কথা বলে একটি মহল এলাকাজুড়ে প্রচার চালিয়েছে। তারাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গজারাই গ্রামের ফয়জুর রহমান বলেন, জানাজার ইস্যু সামনে এনে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করে তারা সফল হয়েছে। কারণ, জানাজার সময় প্রতিকৃতি কাপড় দিয়ে সহজে ঢাকা সম্ভব।
শুধু সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতিই নয়, ওই দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতিও একই সঙ্গে মুছে ফেলা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাছুম মিয়া জানান, এলাকার লোকজন এসে বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজার নামাজ আদায়ের কথা বলায় প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলার নির্দেশ দিই। তবে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে এসব প্রতিকৃতি আঁকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এলাকার খয়রুল ইসলাম, জামাল হোসেন, আবদুল মালিক, আবদুর রাজ্জাক, আয়াজ আলী, লুৎফুর রহমান, অলিউর রহমান, লুৎফুরসহ বেশ কয়েকজন প্রতিকৃতি মুছে ফেলার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এসে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দাবি জানান।
তথ্যসূত্র ও ছবি: দৈনিক সমকাল
Sylhetnewsbd Online News Paper