আহম্মদ কবির,তাহিরপুর প্রতিনিধি: তাহিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফসলহারা কৃষকদের বোরু ধান রোপণ মৌসুম শুরু হলেও,সরকার ঘোষিত বিশেষ কৃষি ভুর্তগির টাকা পাচ্ছেন না ২৯হাজার ৯৪৮ জন কৃষক। তাহিরপুর স্থানীয় দুই ব্যাংক সোনালী ও কৃষি ব্যাংক শাখার কর্মকর্তাগন বিভিন্ন ব্যাস্ততার অজুহাত দেকিয়ে আজ না কাল বলেই ফসলহারা কৃষকদের বার বার হয়রানি করছেন। সোমবার (২২জানূয়ারি)খবর নিয়ে জানা যায়, পায়নি তারা বিশেষ কৃষি ভুর্তগির টাকা।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস তথ্য মতে জানা যায়,কৃষকদের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ঠিক করে কৃষকদের তালিকা তৈরী করে তাহিরপুর কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক এনং বাদাঘাট ব্যাংক শাখায়,প্রায় এক মাস পুর্বেই পাঠিয়েছেন।
তাহিরপুর বিভিন্ন এলাকার ফসলহারা কৃষকদের অভিযোগ, ব্যাংক কর্মকর্তারা ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কৃষকদের টাকা দিব দিব বলে আজ দিচ্ছেন না। এদিকে আমাদের সব হাওরে বোরো ধান রোপণ মৌসুম শুরু হয়ে গেছে।
গেল বছর অকাল বন্যার পানিতে বাঁধ ভেঙে পাঁনি ঢুকে তাহিরপুর উপজেলার প্রত্যেকটি বোরো জমির হাওর পাঁনিতে তলিয়ে যায়। যার পলেই সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুণরায় বোরু ফসল রোপনের জন্য,চলতি বছর বীজ, সার ও নগদ অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সরকারের স্বিদ্ধান্ত সাপেক্ষে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল প্রায় ২৯হাজার৯৪৮ জন কৃষককে জনপ্রতি ৫ কেজি বীজ ধান, ৩০ কেজি সার ও এক হাজার করে নগত অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
প্রায় এক মাস পুর্বে বীজতলা তৈরির সময় তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল হতে ২৯ হাজার ৯৪৮ কৃষককে বীজ ধান ও সার দেওয়া হয়। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস হতে কৃষকদের সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে কৃষি অফিস সোনালী ও কৃষি ব্যাংক তাহিরপুর শাখায় পাঠায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর মাসখানেক সময় অতিবাহিত হলেও, একই সঙ্গে হাওরে বোরো ধান রোপণের মৌসুম শুরু হলেও স্থানীয় ব্যাংক দুটির তাহিরপুর ও বাদাঘাট শাখা এখন পর্যন্ত কৃষকদের বিশেষ ভুর্তগির টাকা দেয়নি। কিন্তু তাহিরপুর এলাকায় বোরো ধান রোপণের যথাযথ মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকরা বিশেষ ভুর্তগির টাকা পেতে প্রায়ই উপজেলা কৃষি অফিসে কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
জয়পুর গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, আমরা হাওর অঞ্চলের মানুষ গত বছর ফসল হারিয়ে বর্তমানে মহাজনের কাছ হতে ঋন নিয়ে জমি রোপন করছি,সঠিক সময়ে বিশেষ কৃষি ভুর্তগির টাকাটা পেলে কিছুটা হলেও সহায়তা হত।
শ্রীপুর উত্তর অউনিয়নের কালা শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক ইমানুর মিয়া বলেন গেল বছর ফসল হারিয়ে আমরা দিশেহারা, সঠিক সময়ে যদি বিশেষ কৃষি ভুর্তগির টাকাটা পাওয়া যেন তাহলে কিছুটা হল আমাদের উপকারে আসত।
সোনালী ব্যাংক তাহিরপুর শাখা ব্যবস্থাপক পুলক রঞ্জন চক্রবর্ত্তীর মোঠো ফোনে অনেকবার চেষ্টা করেও মোবাইল কল রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Sylhetnewsbd Online News Paper